যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের অভিষেক হতে যাচ্ছে আগামী সোমবার। তবে ওয়াল স্ট্রিটের প্রবীণ বিশেষজ্ঞ এড ইয়ার্ডেনির মতে, প্রকৃত ক্ষমতা থাকবে বন্ড বাজারের হাতেই। ১৯৮০-এর দশকে যিনি 'বন্ড ভিজিলেনটেস' শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেছিলেন, সেই ইয়ার্ডেনি সম্প্রতি এক নোটে লিখেছেন, ব্রিটেনের নতুন নেতা যেই হোন না কেন, ৪.২ ট্রিলিয়ন ডলারের এই অর্থনীতিতে বন্ড বাজারই শেষ পর্যন্ত সব সিদ্ধান্ত নেবে। বার্নহ্যাম যে একই অস্থির বন্ড বাজারের উত্তরাধিকার পেতে চলেছেন যা লিজ ট্রাসের পতন ঘটিয়েছিল, সেটিও উল্লেখ করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সপ্তাহখানেক আগে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে গিল্ট বাজারে যে অস্থিরতা দেখা গিয়েছিল, তা একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ওই সময়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাসের বাজেটে কর ছাঁটাই ও ব্যয় বৃদ্ধির ঘোষণায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, যার ফলস্বরূপ তিনি মাত্র ৪৪ দিনের মধ্যে পদত্যাগে বাধ্য হন। আইএমএফের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাজারের আস্থা ফিরিয়ে আনতে নীতি-নির্ভরযোগ্যতা এবং পূর্বাভাসযোগ্যতা অত্যন্ত জরুরি। একইসঙ্গে তারা সতর্ক করে জানায়, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাজ্যের বন্ড বাজারে আগের চেয়ে আরও বড় ভূমিকা পালন করছে। ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ফলনের তারতম্যের ৬০ থেকে ৯০ শতাংশের জন্য বিশ্বব্যাপী কারণগুলো দায়ী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে যুক্তরাজ্য এখন অস্থির মূলধন প্রবাহ ও দাম-সংবেদনশীল 'ফাস্ট মানি'র কাছে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বলে সতর্ক করে আইএমএফ।

বার্নহ্যাম নিজে অবশ্য এই প্রভাবের বিষয়ে আগেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। গত বছর সেপ্টেম্বরে তিনি বলেছিলেন, 'বন্ড বাজারের কাছে জিম্মি হওয়ার এই অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।' কিন্তু ইয়ার্ডেনির মতে, লেবার পার্টির নেতা এই চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন না। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং চ্যান্সেলর র্যাচেল রিভসকে বন্ড বিনিয়োগকারীরা খুব শক্ত করায়ত্ত করে রেখেছিলেন। তাদের ঋণ পরিকল্পনার জবাবে বন্ডের ফলন বৃদ্ধি পেয়েছিল। বর্তমানে বাজার বার্নহ্যামকে কিছুটা সুযোগ দিচ্ছে, তবে খুব বেশি ছাড় দিচ্ছে না বলেও জানান ইয়ার্ডেনি। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাজ্যের সরকারি ঋণের ৩০ শতাংশই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে।

চ্যান্সেলর অব দ্য এক্সচেকার হিসেবে শাবানা মাহমুদের নাম শোনা যাচ্ছে, যা বাজারকে কিছুটা আশ্বস্ত করলেও ইয়ার্ডেনি সতর্ক করে বলেন, 'বন্ড ভিজিলেনটেসরা কিন্তু এখনও নিশ্চুপ হয়ে বসে নেই।' বার্নহ্যামকে একটি কঠিন ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। একদিকে মন্থর প্রবৃদ্ধিকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে, অন্যদিকে বন্ড বাজারকে সন্তুষ্ট করে রাজস্ব নীতি কঠোর রাখতে হবে। এই কঠিন পথ পাড়ি দিতে গিয়ে রাজনৈতিকভাবে অপ্রিয় কিছু সিদ্ধান্তও নিতে হতে পারে তাকে।

আইএমএফের প্রতিবেদনে কর নীতি নিয়েও কিছু সুপারিশ রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, উচ্চ আয়ের ওপর কর বাড়ানো অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হবে। এর পরিবর্তে নিম্ন আয়ের লোকজনের ওপর কর বাড়ানো এবং কর্মরত অবস্থায় আরও উদার ভাতা দেওয়া বেশি কার্যকর হবে। বার্নহ্যামের জন্য এটিও একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে, কারণ তাকে একই সঙ্গে প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক ন্যায়বিচার বজায় রাখতে হবে।