স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম নাসডাকে প্রথম সপ্তাহ শেষে ৩৭ শতাংশ বেড়ে ১৮৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা কোম্পানিটির বাজার মূল্যায়ন ২.৪৪ ট্রিলিয়ন ডলারে নিয়ে গেছে। এই মূল্য বৃদ্ধির আগে স্পেসেক্সের মূল্যায়ন ছিল ১.৭৫ ট্রিলিয়ন ডলার। ফলে এখন টেসলা অধিগ্রহণের জন্য আগের ৪৬ শতাংশ শেয়ারের পরিবর্তে মাত্র ৩৮ শতাংশ শেয়ার ইস্যু করলেই চলবে।
গত ১২ জুন সিএনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পেসএক্সের প্রেসিডেন্ট ও সিওও গুইন শটওয়েল টেসলা কেনার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি। তিনি বলেছিলেন, 'ভবিষ্যতে আমরা সবাই এক অভিসারে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি। এই সম্পর্ক এলনের জীবন কিছুটা সহজ করে দিতে পারে।' তার এই মন্তব্যের পর থেকেই একীভূতকরণের আলোচনা জোরদার হয়েছে।
টেসলার মৌলিক অবস্থা দুর্বল হচ্ছে। বিগত চার প্রান্তিকে কোম্পানিটি জিএএপি নীতি অনুযায়ী মাত্র ৩.৪ বিলিয়ন ডলার নিট আয় করেছে, যা ২০২৩ সালের ১৫ বিলিয়ন ডলার ও ২০২৪ সালের ৭ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় অনেক কম। অথচ টেসলার বাজার মূলধন এখনও প্রায় ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে টিকে আছে, যা মূলত এলন মাস্কের রোবট ও স্বয়ংচালিত গাড়ি থেকে বিপুল মুনাফার প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এই পণ্যগুলো এখনও বাজারে আসেনি এবং বারবার বিলম্বিত হচ্ছে।
ওয়াল স্ট্রিটের ধারণা, টেসলার এত বড় বাজার মূলধনের পেছনে ভবিষ্যতের সম্ভাবনার চেয়ে স্পেসএক্সের সম্ভাব্য অধিগ্রহণের প্রভাব বেশি কাজ করছে। ওয়েডবাশ সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক ড্যান আইভস একীভূতকরণের সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ দেখছেন। বিনিয়োগকারী রস গারবার মনে করেন, মাস্ক ইতিমধ্যেই এক্সএআইকে স্পেসএক্সের সাথে যুক্ত করেছেন এবং এই পদক্ষেপ তার এআই-চালিত প্রযুক্তির সমন্বয়কে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। বেটিং সাইট ক্যালশিতে আগামী মে মাসের মধ্যে চুক্তির সম্ভাবনা ৫২ শতাংশ থেকে বেড়ে বর্তমানে ৫৪ শতাংশে পৌঁছেছে।
স্পেসএক্সের এস-১ ফাইলিংয়ে দুই কোম্পানির মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে, যার মধ্যে ডিজিটাল ওয়ার্কফ্লো উন্নয়ন ও টেরাফেব সুবিধায় যৌথ মালিকানা অন্তর্ভুক্ত। টেসলা স্পেসএক্সের শেয়ারে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের মালিক, যা ফেব্রুয়ারিতে রকেট-নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি এক্সএআই কেনার মাধ্যমে অর্জিত হয়। মাস্কের অবস্থান যে তার দুটি প্রধান বিনিয়োগই একটি অভিন্ন এআই দৃষ্টিভঙ্গি ভাগ করে নেয়, যা চুক্তিকে ন্যায্যতা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে।
একীভূত হলে সম্মিলিত সত্তার বাজার মূলধন হবে প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলার, যা এনভিডিয়া, আলফাবেট ও অ্যাপলের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ বৃহত্তম প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। তবে এই কোম্পানির মুনাফা হবে নেতিবাচক, কারণ স্পেসএক্সের লোকসান টেসলার সামান্য আয়কে ছাড়িয়ে যাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাস্ক একটি অতিমূল্যায়িত শেয়ার দিয়ে আরেকটি অতিমূল্যায়িত শেয়ার কিনছেন, যা টেসলার শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ভালো হলেও স্পেসএক্সের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ক্ষতিকর হবে। অধিগ্রহণের ফলে স্পেসএক্স শেয়ারহোল্ডাররা ১০০ শতাংশ মালিকানা থেকে কমে যাবেন দুই-তৃতীয়াংশেরও নিচে, এবং বিনিময়ে পাবেন ইভি ব্যবসা ও রোবোট্যাক্সির মতো পণ্য। জিই ও হানিওয়েলের মতো কোম্পানি যখন কনগ্লোমারেট মডেল পরিত্যাগ করছে, তখন মাস্ক এই বিশাল ভিন্নধর্মী ব্যবসা সফলভাবে চালাতে পারেন কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।




