দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা ৩৪ কোটি টাকা ঋণ আত্মসাতের মামলায় আজ রোববার ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসির সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট আসাদুল আজাদ সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুনের আদালতে এই সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়। পরে তাঁকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। এই মামলায় মোট ১৫ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামি রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ইভিপি রাশেদুল হকের পক্ষে তাঁর আইনজীবী নিয়াজ মোরশেদ সাক্ষী আসাদুল আজাদকে জেরা করেন। অপর আসামি নাহিদা রুনাইয়ের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ বাবুল ব্যাপারী জেরা মুলতবির আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। একইসঙ্গে অবশিষ্ট জেরা ও তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ৯ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করেছেন বিচারক।
মামলার ঘটনা প্রসঙ্গে জানা যায়, ২০১৩ সালের ৮ আগস্ট নামসর্বস্ব এ এম ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের নামে ৩৪ কোটি টাকার একটি মেয়াদি ঋণ অনুমোদন করা হয়। আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে এই ঋণ বিতরণের নামে ওই অর্থ এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডে স্থানান্তর করেন। জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে এই ঋণ আত্মসাতের ঘটনায় গত বছর ২ জুলাই দুদকের উপপরিচালক তাহাসিন মুনাবীল হক মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান) ও প্রশান্ত কুমার হালদার (পি কে হালদার, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক)-সহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়।
গত বছরের ১৬ অক্টোবর তদন্ত শেষে দুদকের উপপরিচালক তাহাসিন মুনাবীন হক ১৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই মামলার বিচার শুরু হয়। মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন— এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ, পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ হাসান ও শাহানা ফেরদৌস। এছাড়া রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক এসভিপি কাজী আহমেদ জামাল, সাবেক ডেপুটি ম্যানেজার জুমারাতুল বান্না, মাররিন ভেজিটেবল অয়েলসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির আহমেদ, পরিচালক টিপু সুলতান, মো. ইসহাক ও মো. আবদুল্লাহ আল মামুন রয়েছেন।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে এই মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। প্রথম দিন মামলার বাদী ও দুদকের উপপরিচালক তাহাসিন মুনাবিল হক সাক্ষ্য দেন। এরপর ২২ জুন পাঁচজন এবং ৮ জুলাই আরও চারজন সাক্ষ্য দেন। আজকের সাক্ষ্যের মাধ্যমে মোট ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলো। আগামী ৯ আগস্ট বাকি জেরা ও তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।




