বর্ষার আর্দ্রতা, ঘাম ও হঠাৎ বৃষ্টি মেকআপপ্রেমীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে। তবে ত্বকের ধরন বুঝে সঠিক প্রসাধনী ও পদ্ধতি বেছে নিলে এই মৌসুমেও সতেজ ও দীর্ঘস্থায়ী সাজ পাওয়া সম্ভব। সম্প্রতি এই বিষয়ে বিস্তারিত মতামত দিয়েছেন শোভন মেকওভার বিউটি ক্লিনিক অ্যান্ড মেকওভার স্যালনের কসমেটোলজিস্ট ও স্বত্বাধিকারী শোভন সাহা।

তিনি বলেন, বর্ষাকালে মেকআপের প্রধান সমস্যা হলো সেটি দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখা। গরম ও আর্দ্রতার কারণে একই প্রসাধনী সবার ত্বকে সমানভাবে কাজ করে না, তাই কেনার আগে নিজের ত্বকের সঙ্গে যাচাই করা জরুরি। আন্তর্জাতিক ট্রেন্ড যেমন ক্লাউডি স্কিন থাকলেও বাংলাদেশের আবহাওয়ায় তা বাস্তবসম্মত নয়। এখানে শুধু পানিনিরোধক নয়, ত্বকের ধরন অনুসারে ঘামনিরোধক পণ্যও নির্বাচন করা উচিত। তৈলাক্ত ত্বকে তেলসমৃদ্ধ পানিনিরোধক ফাউন্ডেশন আরও দ্রুত উঠে যেতে পারে, আর ব্রণ বা অতিরিক্ত সেবাম থাকলে পানিনিরোধক মেকআপও টেকে না।

বেস মেকআপের ফিনিশও ত্বকের প্রকারের ওপর নির্ভর করে। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ফাউন্ডেশনের পর লুজ পাউডার বা কমপ্যাক্ট পাউডার ব্যবহার করা ভালো। শুষ্ক ত্বকে অতিরিক্ত পাউডার কেকি দেখাতে পারে, তাই এই ধাপ বাদ দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। মেকআপ শেষে সেটিং স্প্রে ব্যবহার করলে বেজ দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে সাহায্য করে। মাসকারা অবশ্যই পানিনিরোধক হতে হবে, তবে তা তুলতে ভালো মানের মেকআপ রিমুভার ব্যবহার করা জরুরি। পরিষ্কারের পর সাদা টিস্যু দিয়ে চেপে দেখে নেওয়া উচিত কোনো দাগ থেকে গেছে কি না। প্রতিদিন মেকআপ করলে ত্বকের ক্ষতি হয় না, কিন্তু সঠিক পরিষ্কার না করলেই সমস্যা দেখা দেয়।

ময়েশ্চারাইজার সারা বছরই প্রয়োজন, তবে গ্রীষ্মের জন্য ওয়াটারবেজড পণ্য ব্যবহার করা উচিত। ভারী ক্রিম ত্বককে তৈলাক্ত করে দিতে পারে। সানস্ক্রিন বর্ষাতেও জরুরি, কারণ মেঘলা দিনেও অতিবেগুনি রশ্মি থাকে। তাই দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা পরপর পানি ও ঘাম প্রতিরোধী সানব্লক লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ভারী ফাউন্ডেশনের জায়গায় স্কিন টিন্ট, টিনটেড এসপিএফ, বিবি ক্রিম বা সিসি ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে তা ত্বকের বর্তমান অবস্থা ও বয়সের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।

বর্তমানে কম পণ্য ও পাতলা স্তরে মেকআপ ব্যবহার কার্যকর কৌশল, কিন্তু এজন্য ত্বক সুস্থ থাকা জরুরি। ত্বক ভালো থাকলে মেকআপ কম লাগে। মেকআপের আগে ময়েশ্চারাইজার, প্রয়োজনে টোনার বা সিরাম ও প্রাইমার ব্যবহার করে ত্বক প্রস্তুত করে নিতে হবে। রঙিন চোখের সাজের জন্য শেদ নির্বাচনে পোশাক ও অনুষ্ঠানের ধরন গুরুত্বপূর্ণ। দিনের বেলায় টিল, অ্যাকুয়া বা ল্যাভেন্ডারের হালকা টান ব্যবহার করা যায়; আর রাতের অনুষ্ঠানে একই রঙ স্মাজ করে স্মোকি লুক তৈরি করা সম্ভব।

পাউডার ব্যবহারের ভারসাম্যের জন্য ত্বকের অবস্থা বোঝা প্রয়োজন। শুষ্ক ত্বকে বেশি পাউডার কেকি ফিনিশ দেয়, আর তৈলাক্ত ত্বকে পাউডার না দিলে বেজ দ্রুত নষ্ট হয়। পেশাদারদের পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করে নিজের জন্য সঠিক কৌশল বেছে নেওয়া যেতে পারে। টি-জোন নিয়ন্ত্রণে পুরো মুখে না দিয়ে শুধু কপাল, নাক ও থুতনিতে পাউডার ব্যবহার করাই ভালো। ঠোঁটের পণ্য নির্বাচন ঠোঁটের অবস্থার ওপর নির্ভর করে; শুষ্ক ঠোঁটে লিপ অয়েল বা টিনটেড বাম আরামদায়ক, আর ম্যাট লিপস্টিক এড়িয়ে চলা উচিত।

মেকআপ করা অবস্থায় ঘাম বা বৃষ্টির পানি মুখে পড়লে কখনও ঘষা উচিত নয়। টিস্যু দিয়ে হালকা চেপে পানি শোষণ করে নিতে হবে। মেকআপ ভারী হলে পাউডার পাফ দিয়ে হালকা টাচ-আপ করা যেতে পারে। পাঁচ মিনিটের দ্রুত রুটিনের জন্য নিয়মিত ত্বকের যত্ন আবশ্যক। ফেশিয়াল, ট্রিটমেন্ট, ডে-নাইট ক্রিম ও সানব্লক ত্বক সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। বাইরে যাওয়ার আগে সানব্লকের ওপর দুটি ফোঁটা ফাউন্ডেশন, হালকা ব্লাশ ও ঠোঁটের পণ্য যথেষ্ট।

২০২৬ সালের রূপচর্চার ধারায় স্কিন মিনিমালিজম, সফট ম্যাট বেস, ক্রিম ব্লাশ ও স্মাজড আই থাকলেও বাংলাদেশের বর্ষায় সবচেয়ে ব্যবহারযোগ্য হলো স্কিন মিনিমালিজম ও সফট ম্যাট বেস লুক। ত্বক ভালো থাকলে বিবি ক্রিম, সিসি ক্রিম বা সানব্লক দিয়েই সহজেই ট্রেন্ডি ও আরামদায়ক সাজ তৈরি করা যায়। টাচ-আপের জন্য ব্লটিং পেপার সবচেয়ে কার্যকর, বিশেষ করে তৈলাক্ত অংশে। বাইরে থাকলে টিস্যু দিয়ে চাপ দিয়ে তেল বা পানি দূর করা উচিত। সঠিক পণ্য ও পদ্ধতি বেছে নিলে বর্ষার জটিল আবহাওয়াতেও সতেজ ও টেকসই মেকআপ ধরে রাখা সম্ভব।