বিজ্ঞানী নিকোলা টেসলা তাঁর আত্মজীবনীমূলক রচনায় কৈশোরের স্মৃতিচারণ করেছেন। শৈশবে তিনি নানা রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং চিকিৎসকেরা তাঁর বেঁচে থাকার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি নিজের জীবনযাত্রার নিয়মনিষ্ঠা ও পরিমিতিবোধের কারণে দীর্ঘদিন সুস্থ ও সবল ছিলেন। তিনি বলেন, তাঁর শারীরিক সুস্থতার মূল রহস্য ছিল নিয়ম মেনে চলা এবং জীবনযাপনে সংযম। সেই সঙ্গে শৈশবের নানা বিপদ থেকে অলৌকিকভাবে রক্ষা পাওয়ার ঘটনাও তিনি স্মরণ করেছেন।
একবার নদীতে সাঁতার কাটার সময় তিনি একটি কাঠের কাঠামোর নিচে আটকে পড়েছিলেন। বারবার মাথা তুলতে গিয়ে তিনি কাঠের বিমে আঘাত পান। প্রায় শ্বাসরুদ্ধ হওয়ার উপক্রম হলে তিনি এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখতে পান এবং সামান্য ফাঁক দিয়ে বাতাস নিয়ে প্রাণে বাঁচেন। আরেকবার একটি বাঁধের কাছে স্রোতে আটকে পড়ে তিনি প্রায় মৃত্যুর মুখে পড়েছিলেন। তখন তিনি পানির চাপ সম্পর্কে একটি নীতি মনে করে শরীরের অবস্থান বদলে দেন এবং ধীরে ধীরে তীরে ফিরে আসেন।
শৈশবে তিনি প্রথম ব্যাঙ ধরার একটি অভিনব কৌশল আবিষ্কার করেন। তিনি একটি খালি বড়শি ব্যাঙের সামনে ঝুলিয়ে দিতেন, আর ব্যাঙটি রেগে গিয়ে সেটিতে কামড় দিলে তিনি তা টেনে তুলতেন। এই কৌশলে তিনি এত বেশি ব্যাঙ ধরেছিলেন যে তাঁর বন্ধুরা বিস্মিত হয়ে গিয়েছিল। পরে তিনি মে-বাগ ব্যবহার করে একটি যন্ত্র তৈরি করেন, কিন্তু এক ছেলে জীবন্ত মে-বাগ খেয়ে ফেলায় তিনি সেই গবেষণা বন্ধ করে দেন।
এরপর তিনি ঘড়ি খোলা ও জোড়া লাগানোর চেষ্টা করেন, তবে সেগুলো জোড়া লাগাতে ব্যর্থ হয়ে নানার বকুনি খান। পরে তিনি তোপ-বন্দুক তৈরি করেন, কিন্তু সেটি দিয়ে জানালার কাচ ভেঙে যাওয়ায় সেই কাজও ছেড়ে দেন। গসপিচ শহরে চলে আসার পর তিনি গির্জায় এক ধনী মহিলার পোশাক ছিঁড়ে ফেলেছিলেন বলে বাবার কাছ থেকে একমাত্র চড় খান। তবে একদিন শহরের দমকল বাহিনীর নতুন ফায়ার ইঞ্জিনের পাম্পে সমস্যা হলে তিনি পানির পাইপটি সোজা করে দিয়ে সবার নায়ক হয়ে ওঠেন।
শহরে আসার পর তিনি কাক শিকার করতেন, কিন্তু একদিন এক ঝাঁক কাক তাঁকে আক্রমণ করে বসে। তিনি আরও ছোটবেলায় জলপ্রপাতের একটি বর্ণনা পড়ে মুগ্ধ হয়েছিলেন এবং ভেবেছিলেন একদিন সেখানে একটি বিশাল চাকা ঘুরবেন। ত্রিশ বছর পর সত্যিই তিনি নায়াগ্রা জলপ্রপাতে সেই কাজটি করতে দেখেছিলেন। শেষে তিনি গুলতি চালনায় তাঁর দক্ষতার কথা বলেছেন, যেখানে তিনি শূন্যে লাফিয়ে ওঠা একটি ট্রাউট মাছকে পাথর ছুড়ে দুই টুকরো করে ফেলেছিলেন।




