বাল্টিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা জটিলতার মধ্যে ন্যাটো বাহিনীর যুদ্ধবিমান লাটভিয়ার আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকারী একটি বিদেশি ড্রোন ধ্বংস করেছে। ঘটনার জেরে ফিনল্যান্ডও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কিছু সময়ের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ও সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় চলাচল সীমিত করে দেয়।

লাটভিয়ার কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার জন্য রাশিয়ার ইলেকট্রনিক যুদ্ধকৌশলকে দায়ী করেছে। তাদের বক্তব্য, ড্রোনটি নিয়ন্ত্রণে বিঘ্ন সৃষ্টির মাধ্যমে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ইলেকট্রনিক হস্তক্ষেপের ফলে ড্রোনটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লাটভিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করে, যা পরে ন্যাটো বাহিনীকে গুলি করে নামাতে বাধ্য করে।

ঘটনার পরপরই উত্তর আটলান্টিক জোটের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ন্যাটোর যুদ্ধবিমানগুলো বাল্টিক এয়ার পুলিশিং মিশনের অংশ হিসেবে টহলরত অবস্থায় ছিল এবং তারা লাটভিয়ার আকাশসীমায় অননুমোদিত একটি উড়ন্ত বস্তু শনাক্ত করে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং ড্রোনটিকে নিরপেক্ষ করা হয়।

ফিনল্যান্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কিছু সময়ের জন্য দেশটির আকাশসীমায় বেসামরিক বিমান চলাচল সীমিত রাখা হয় এবং উপকূলীয় কিছু সমুদ্র এলাকায় নৌচলাচলে বিধিনিষেধ জারি করা হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এই বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাল্টিক অঞ্চলে রাশিয়া ও পশ্চিমা জোটের মধ্যে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ড্রোন হামলা, ইলেকট্রনিক জ্যামিং এবং অন্যান্য সামরিক উসকানির ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। এই নতুন ঘটনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলল।

এখন পর্যন্ত রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই অভিযোগের আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব দেওয়া হয়নি। লাটভিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে এবং প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।