আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বাদাখশান প্রদেশে এক বিস্ফোরণে মেয়র নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রাদেশিক রাজধানী ফয়জাবাদে গত বৃহস্পতিবার রাতে নিজের গাড়িতে থাকা অবস্থায় মেয়র হাবিব উর রহমান মনসুর এই বিস্ফোরণে প্রাণ হারান। ঘটনার বিবরণ বা কারা এর সাথে জড়িত থাকতে পারে, সে সম্পর্কে মন্ত্রণালয় কিছু জানায়নি। আজ শুক্রবার নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও মনসুরের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি না থাকায় তিনি নিজের পরিচয় গোপন রেখেছেন।
তালেবান আগামী ১৫ আগস্ট ক্ষমতা দখলের পঞ্চম বার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক সেই সময়েই এই হামলার ঘটনা ঘটল। ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনী সেনা প্রত্যাহারের পর দ্রুতই দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। এই ঘটনার মাত্র দুই সপ্তাহ আগে বাদাখশানের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক জাবিহুল্লাহ আমিরিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। স্থানীয় এক এলাকা থেকে ফয়জাবাদে ফেরার পথে বন্দুকধারীরা তার গাড়িতে গুলি চালায়। নিরাপত্তারক্ষীদের পাল্টা গুলিতে সেখানে একজন নিহত ও অপরজন আটক হয়। তবে দুই হামলার কোনোটিরই উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি।
এর আগেও বাদাখশানে তালেবান কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হামলার নজির আছে। ২০২৩ সালের জুনে বাদাখশানের তৎকালীন ডেপুটি গভর্নর নিসার আহমদ আহমাদি গাড়িবোমা বিস্ফোরণে নিহত হন, সেই সাথে তার গাড়িচালকও প্রাণ হারান। ইসলামিক স্টেটের আঞ্চলিক শাখা আইএস-কে সেই হামলার দায় স্বীকার করে। তার কয়েকদিন পর ডেপুটি গভর্নরের স্মরণসভায় আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১৩ জন প্রাণ হারান, যার দায়ও নেয় আইএস-কে। ২০২৩ সালের মার্চে উত্তরাঞ্চলীয় বালখ প্রদেশের গভর্নরকেও তার কার্যালয়ে বোমা হামলায় হত্যা করা হয়।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কাবুলে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হন শরণার্থীবিষয়ক মন্ত্রী খলিল হাক্কানি, যিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজউদ্দিন হাক্কানির চাচা ছিলেন। সিরাজউদ্দিন হাক্কানি তালেবানের অভ্যন্তরে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্কের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। দেশটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে, বিশেষ করে তালেবান প্রশাসনের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন। এই ধরনের ঘটনা দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।




