১৯৯১ সালের পর দীর্ঘ ৩৫ বছরের ব্যবধানে দেশে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগে ক্ষমতাসীন দলের একক মনোনয়নের ভিত্তিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন সাতজন। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন; সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্ধারিত হবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। ক্ষমতাসীন দল বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আর জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।
মঙ্গলবার বিকেল চারটা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দুজন প্রার্থীর কেউই নাম প্রত্যাহার করেননি। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের কাছে এই বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তফসিল অনুযায়ী ভোটগ্রহণ অনিবার্য। তিনি আরও বলেন, আজই নির্বাচনের ব্যালট পেপার তৈরি করা হবে এবং প্রস্তুতির সব কাজ এগিয়ে চলছে।
আগামী বৃহস্পতিবার, অর্থাৎ ২০ আগস্ট, বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণ শুরুর আগে নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন উপস্থিত সংসদ সদস্যদের কাছে ভোট প্রদানের বিস্তারিত নিয়মাবলি ব্যাখ্যা করবেন। ব্যালট পেপারের গঠনও তিনি স্পষ্ট করবেন।
ব্যালটের দুটি স্বতন্ত্র অংশ থাকবে—একটি মুড়ি অংশ এবং অন্যটি মূল ব্যালট। মুড়ি অংশে তিনটি তথ্য লিপিবদ্ধ থাকবে: ক্রমিক নম্বর, সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের পূর্ণ নাম এবং তার নির্বাচনী বিভক্তির নম্বর। সদস্যরা নিজেদের পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ব্যালট গ্রহণ করবেন। মূল ব্যালটের ডান দিকে বাংলা বর্ণমালার আদ্যক্ষর অনুসারে সাজানো থাকবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম; প্রতিটি নামের ডান পাশে নির্দিষ্ট খালি স্থানে সদস্যরা পূর্ণ স্বাক্ষর করে ভোট প্রদান করবেন। ভোট প্রদানের পর নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে পেপার জমা দেবেন। ব্যালটের রং হবে সাদা, যার ওপর কালো অক্ষরে মুদ্রণ থাকবে।
ভোটার হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন সংসদের সদস্যরা। সংরক্ষিত নারী আসনসহ সংসদের মোট আসন সংখ্যা ৩৫০ হলেও, আদালতের রায়ে বিএনপির আসলাম চৌধুরীর সদস্যপদ বাতিল হওয়ায় এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪৯ জন। বিকেল ৫টার পর সংসদ কক্ষেই গণনার কাজ শুরু হবে; নির্বাচনী কর্তা সেখানে ফলাফল ঘোষণা করবেন এবং পরবর্তীতে গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে, সংসদ সদস্যরা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার অধিকার রাখেন না। যদি কেউ এই বিধান লঙ্ঘন করেন, তবে তার সংসদ সদস্যপদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয়ে যাবে। বর্তমান সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত জোটের সংসদ সদস্যের সংখ্যা ৯০ জন। ফলে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তবুও দুজন প্রার্থী মাঠে থাকায় ২০ আগস্ট নির্ধারিত দিনেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। সংবিধানিক বিধান অনুযায়ী, এই পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সেই সময়সীমা মেনে চলতেই এই ভোটের আয়োজন করা হয়েছে।




