দেশের দুই প্রিমিয়ার আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের উপস্থিতির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, আসন্ন সমাবর্তনে তাঁদের আমন্ত্রণ জানানো হলে তারা তা প্রত্যাখ্যান করবেন।
বিশ্ববিদ্যালয় দুটির শিক্ষার্থীদের একটি অংশের দাবি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু ঘটনায় প্রধান বিচারপতির ভূমিকা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। এই উদ্বেগের কারণেই তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তবে শিক্ষার্থীদের এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মধ্যেও নানা মতভেদ তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, সমাবর্তনের মতো ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতিকে আমন্ত্রণ না জানানো একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ তাদের দাবিতে অনড় রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সমাবর্তনের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই এই বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে আলোচনা চলছে। শিক্ষার্থীদের একটি পক্ষ ইতিমধ্যে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে এবং তারা সমাবর্তন বর্জনের হুমকিও দিয়েছে।
প্রধান বিচারপতির কার্যালয় থেকে অবশ্য এ বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিস্থিতি সমাধানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, আইনজীবী সমাজের একটি অংশ শিক্ষার্থীদের এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন। তাদের মতে, বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি রক্ষায় শিক্ষার্থীদের এই সচেতনতা ইতিবাচক। অন্যদিকে, কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্যের সঙ্গে আপস না করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা উচিত।
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কোনো ব্যক্তিগত বিদ্বেষের বশবর্তী হয়ে এই সিদ্ধান্ত নেননি। বরং বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের স্বার্থেই তারা এই অবস্থান নিয়েছেন। তাদের মতে, প্রধান বিচারপতির সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত ও মন্তব্য এই মূল্যবোধের পরিপন্থী।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবশ্য বিষয়টি নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না। তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আরও আলোচনা করে একটি সমাধানে পৌঁছাতে চায়। তবে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে, তাদের দাবি না মানা হলে সমাবর্তন অনুষ্ঠান তারা প্রতিহত করবে।
এই পরিস্থিতিতে দেশের আইন শিক্ষাঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই ঘটনা ভবিষ্যতে বিচার বিভাগ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় তৈরি করতে পারে।




