রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আরও ৫০টি স্থানে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পরিবেশদূষণবিষয়ক এক বৈঠকে তিনি এই আদেশ দেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই। তাঁর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বায়ু ও শব্দদূষণ প্রতিরোধে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ইটভাটার কারণে সৃষ্ট বায়ুদূষণ রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইট উৎপাদনের ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।

এ ছাড়া রাজধানীতে যানবাহনের হর্নের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ব্যবহার করা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্যামেরার মতো হর্ন নিয়ন্ত্রণেও এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

গত বছরের আগস্ট মাসে রাজধানীর সাতটি মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করা হয়। ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল, বাংলামোটর, সোনারগাঁও, ফার্মগেট, বিজয় সরণি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং জাহাঙ্গীর গেট মোড়ে এসব সিগন্যাল বসানো হয়। সেগুলো তৈরি করেছিল বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। পরে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), দুই সিটি করপোরেশন, বুয়েট এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) যৌথভাবে এ ব্যবস্থার তদারকি করে।

চলতি বছরের ৭ মে থেকে ঢাকার বিভিন্ন মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। ঢাকার ৩০টি মোড়ে এআই প্রযুক্তির পিটিজেড (প্যান-টিল্ট-জুম) ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এতে সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করার সফটওয়্যার সংযোজন করা হয়েছে। সফটওয়্যারটির নির্দেশনা অনুযায়ী, আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে সেই গাড়ি শনাক্ত করছে ক্যামেরা। এর ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকের নামে ডিজিটালি মামলা দেওয়া হচ্ছে।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, সিগন্যাল অমান্য করা, জেব্রা ক্রসিংয়ে গাড়ি উঠিয়ে দেওয়া, স্টপ লাইন না মানা, বাঁ লেন বন্ধ রাখা, হেলমেট না পরা, যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা, ফুটপাতে গাড়ি চালানো এবং অবৈধ পার্কিংয়ের মতো অপরাধে জরিমানা করা হচ্ছে এ ব্যবস্থায়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আনিসুর রহমানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।