চট্টগ্রাম নগরের অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কটির বেহাল দশায় স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। গত বুধবার সকালে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক হাফিজুর রহমানের মতো অনেকেই পানির নিচে লুকিয়ে থাকা বড় গর্তের শিকার হয়েছেন। তিনি জানান, কেবল গোড়ালি পরিমাণ পানি দেখে এগিয়ে গেলে হঠাৎ ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায় এবং গাড়িটি আটকে পড়ে। শেষ পর্যন্ত পানির মধ্যে গাড়ি ঠেলে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়েছে। হাফিজুরের ভাষ্য, 'দু-তিন দিন বৃষ্টি নেই, তারপরও রাস্তা পানির নিচে। কোথায় গর্ত, বোঝার উপায় নেই। মনে হয় বিলের মধ্যে গাড়ি ঠেলছি।' এই সড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। হাটহাজারী, রাউজান ও কাপ্তাই উপজেলার বাসিন্দারাও এই পথ ব্যবহার করেন। সড়কটির পাঁচ কিলোমিটারজুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত এবং উঠে যাওয়া পিচের কারণে চলাচল অত্যন্ত ধীরগতির হয়ে পড়েছে। বকসুনগর, ওয়াজেদিয়া মোড়, তামান্না বিল্ডিং এলাকা ও অনন্যা আবাসিক এলাকার আশেপাশের প্রায় ছয়টি স্থানে পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক। গর্ত এড়াতে মোটরসাইকেল আরোহীরা পা নামিয়ে ভারসাম্য রাখছেন, আর অটোরিকশা ও রিকশাচালকরা এক পাশ থেকে অন্য পাশে ছুটে চলেছেন। কেউ কেউ সামনের গাড়ির পথ অনুসরণ করে পানির গভীরতা বোঝার চেষ্টা করছেন। কোনো কোনো যানবাহন হঠাৎ গর্তে পড়ে দুলে উঠছে বা বিকল হয়ে থেমে যাচ্ছে। ২০০৫ সালে সিডিএ অনন্যা আবাসিক এলাকা প্রকল্পের অংশ হিসেবে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সড়কটি নির্মাণ করে। ২০১৩ সালে কাজ শুরু হয়ে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে শেষ হয় এবং ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু উদ্বোধনের প্রায় এক দশক পরও সড়কটি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে সড়কটি এখন জরাজীর্ণ। সিডিএ ও চসিকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে হস্তান্তর নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। সিডিএ দুই দফা চিঠি দিয়ে দায়িত্ব নিতে বললেও চসিক তা প্রত্যাখ্যান করেছে। সিটি করপোরেশনের দাবি, রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেওয়ার আগে সড়কটিকে সম্পূর্ণ ব্যবহার উপযোগী অবস্থায় বুঝিয়ে দিতে হবে। বর্তমান অবস্থায় দায়িত্ব নিলে প্রায় নতুন করে নির্মাণের সমপরিমাণ অর্থ ব্যয় হবে। দুই সংস্থার পাঁচ সদস্যের যৌথ কমিটি গত জানুয়ারিতে সুপারিশ করে যে, সড়কটি পুনর্নির্মাণ করে হস্তান্তর করা হোক অথবা সিডিএ তা না পারলে পুনর্নির্মাণের খরচ চসিককে দিতে হবে। সিডিএ চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন জানান, টানা বৃষ্টির কারণে রক্ষণাবেক্ষণকাজ ব্যাহত হয়েছে। কাজ শেষ করে সড়কটি হস্তান্তর করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যে সংস্থাই কাজ করুক না কেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের দ্রুত সংস্কার এখন সবচেয়ে জরুরি। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, সকালে স্কুলগামী শিশু ও অফিসগামী মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্ট পান। বৃষ্টি হলে বের হওয়ার আগে ভাবতে হয় কোথায় গাড়ি আটকে যাবে। পানির নিচের গর্তের ভয় সবচেয়ে বেশি। সড়কটির নাজুক অবস্থার কারণেই অনন্যা আবাসিক এলাকার দেড় হাজার প্লট বরাদ্দ দেওয়া হলেও আবাসন পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
চট্টগ্রামের অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়ক: দশক পেরিয়েও হস্তান্তরহীন, বর্ষায় দুর্ভোগ চরমে
চট্টগ্রামের অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়ক উদ্বোধনের এক দশক পরও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বর্ষায় পানি জমে গর্ত ঢাকা পড়ায় যানবাহন চলাচল মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সড়কটি হস্তান্তর নিয়ে সিডিএ ও চসিকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছে, যার ফলে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অবকাঠামোটি ভেঙে পড়ছে।



