যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ ইউনিয়নের চেঙ্গুটিয়া গ্রামের বাসিন্দারা দীর্ঘ ৪৫ দিন ধরে তীব্র জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছেন। গ্রামটির পাশে অবস্থিত যশোর রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) জন্য একটি বিল সম্পূর্ণ মাটি দিয়ে ভরাট করে দেওয়ার ফলে গ্রামের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র প্রাকৃতিক পথ বন্ধ হয়ে গেছে। বৃষ্টির পানি আটকে যাওয়ার পাশাপাশি মজুমদার ফুড প্রোডাক্টস, মজুমদার অ্যাগ্রো ফুড প্রোডাক্টস ও মজুমদার ব্র্যান অয়েল ফ্যাক্টরি নামের তিনটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ওই জমা পানিতে মিশে তীব্র দুর্গন্ধ সৃষ্টি করেছে, যা সহস্রাধিক মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।
গ্রামের কলেজশিক্ষক রফিকুল ইসলাম বাবু জানান, পূর্বে একটি খালের মাধ্যমে গ্রামের পানি বিলে গিয়ে মিশত। কিন্তু ইপিজেড প্রতিষ্ঠার জন্য বিলটি ভরাট করায় পানি বের হওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে। তার উঠান ও ঘরের ভেতর পর্যন্ত হাঁটু পরিমাণ পানি জমে গেছে। এ অবস্থায় খাদ্য প্রস্তুত, সুপেয় পানি সংগ্রহ ও পয়োনিষ্কাশন মারাত্মক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে, কৃষক ইয়ার আলী (৫০) জানান, দেড় মাস ধরে তার উঠানে হাঁটু সমান পানি জমে আছে এবং ঘরের মধ্যে পানি ঢোকার উপক্রম হয়েছে। তিনি আশঙ্কা করছেন, আরও বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতর পানি প্রবেশ করবে। বর্তমানে রাস্তায় চলাচলের সময় কাপড় বাঁচানোই দায় হয়ে পড়েছে।
গ্রামের বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম (৩৫) পানির কারণে তার সারা শরীর চুলকানি ও ঘা-পাঁচড়ায় ভরে গেছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি জানান, নলকূপ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। তার মতে, দেড় মাস ধরে এই অসহনীয় অবস্থা চললেও কারও তেমন নজর নেই সমস্যার দিকে। কাঠমিস্ত্রি যুবক বিল্লাল হোসেনও একই অবস্থার শিকার। পানিতে ডুবে থাকা রাস্তা দিয়ে সাইকেল ঠেলে চলাচল করতে গিয়ে তার পরনের লুঙ্গি উঁচু করে বেঁধে রাখতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ঘর থেকে বের হলেই পানি আর দুর্গন্ধ।
পরিস্থিতির প্রতিকারে গত শুক্রবার বিকেলে চেঙ্গুটিয়া গ্রামের কয়েকশ নারী-পুরুষ যশোর-খুলনা মহাসড়ক ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তারা দ্রুত পানি সরানোর দাবি জানান। গ্রামের কৃষক কামরুল হুদা জানান, প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে মহাসড়ক আবারও অবরুদ্ধ করা হবে।
এদিকে, অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ সালাউদ্দীন দিপু জানান, চেঙ্গুটিয়া গ্রামের পাশ দিয়ে নওয়াপাড়া পৌরসভার একটি ড্রেন রয়েছে। তারা প্রথম থেকেই ড্রেনটি পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করছেন এবং পাইপ বসিয়ে সেচযন্ত্রের সাহায্যে পানি ভৈরব নদে নিষ্কাশনের উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন এই পদ্ধতি খুব কার্যকর হচ্ছে না এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য ইপিজেড কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
যশোর ইপিজেড স্থাপন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. ইউসুফ পাশা বলেন, বিল ভরাটের ফলে পানি যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এই বিষয়ে জেলা প্রশাসককে ইতিমধ্যে চিঠি প্রদান করা হয়েছে। গত ৩০ জুন প্রকল্পের স্ট্যান্ডিং কমিটির সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।




