বিল গেটসের কন্যা ফিবি গেটস বর্তমানে প্রযুক্তি খাতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। বন্ধু সোফিয়া কিয়ান্নির সঙ্গে অংশীদারিত্বে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপ ‘ফিয়া’। সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। কারণ, ফিয়ার ব্যবহৃত প্রযুক্তিগত কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ‘কুকি স্টাফিং’-এর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
প্রথমে বোঝা প্রয়োজন ‘কুকি’ কী। ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত এক ধরনের ছোট প্রযুক্তিগত ফাইলকে কুকি বলা হয়। কোনো ব্যবহারকারী একটি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে এই ফাইল তার কিছু তথ্য স্মরণে রাখতে সাহায্য করে। অনলাইনে কেনাকাটার ক্ষেত্রেও কুকির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, একজন গ্রাহক একটি প্ল্যাটফর্মে কোনো জুতার উপর ক্লিক করেন। পরবর্তীতে তিনি অন্য একটি সাইটে গিয়ে সেই একই পণ্য কিনে ফেলেন। তখন কুকির মাধ্যমে বোঝা যায়, প্রথম ওয়েবসাইটটি ওই গ্রাহককে পণ্যটি কিনতে প্রভাবিত করেছে। এর ভিত্তিতে প্রথম প্ল্যাটফর্মটি কমিশন লাভের যোগ্যতা অর্জন করতে পারে।
কিন্তু ফিয়ার ক্ষেত্রে অভিযোগের প্রকৃতি ভিন্ন। বলা হচ্ছে, ফিয়ার ব্যবহৃত প্রযুক্তি এমনভাবে কুকি স্থাপন করেছিল, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি কোনো বিক্রয়ে সহায়তা না করলেও সেই লেনদেনের কৃতিত্ব দাবি করতে সক্ষম হতো। এই কৃতিত্ব পেলে কমিশন পাওয়ার সুযোগও স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয়ে যেত। অর্থাৎ, গ্রাহকের কেনাকাটার প্রকৃত উৎস ভিন্ন হলেও ফিয়ার প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার মাধ্যমে সেই বিক্রির অংশীদারিত্ব দাবি করতে পারত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এই বিষয় নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর ফিয়ার পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। তারা স্বীকার করেছে যে, সমস্যার জন্য দায়ী নির্দিষ্ট ফিচারটি ইতিমধ্যে তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ভুলভাবে কোনো লেনদেনের কৃতিত্ব নেওয়া হয়ে থাকলে সেগুলোও সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।
এদিকে আইনি দিক থেকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, যদি প্রমাণিত হয় যে ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য পক্ষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার লক্ষ্যেই এমন পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছিল, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের আইনে ‘ওয়্যার ফ্রড’ বা এক ধরনের প্রতারণামূলক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে আইনে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন। ফিবি গেটসের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তাঁকে ২০ বছরের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়নি। ২০ বছরের কারাদণ্ডের উল্লেখ কেবল তাত্ত্বিক সম্ভাব্য সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে করা হয়েছে। এটি তখনই প্রযোজ্য হতে পারে, যদি ভবিষ্যতে গুরুতর প্রতারণার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়।




