চলতি বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের মৃত্যুহার ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও একজন নারীর মৃত্যু হওয়ায় চলতি জুলাই মাসে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বিশ্লেষণে দেখা যায়, বছরের প্রথম ছয় মাসে মোট মৃতের সংখ্যা ছিল ১৮ জন; অর্থাৎ শুধু জুলাই মাসেই তার দ্বিগুণের বেশি রোগী মারা গেলেন।

সার্বিকভাবে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এপর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৫৪ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে ৩৩ জন নারী ও ২১ জন পুরুষ। শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৫৩ রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হন। এ নিয়ে চলতি বছর আক্রান্ত হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১৫,৩১০ জন। এর সিংহভাগই, অর্থাৎ ৯,২০৬ জন (৬০.১৩ শতাংশ) ভর্তি হয়েছেন চলতি জুলাই মাসেই। অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে ১৫৪ জন ছাড়পত্র নেওয়ায়, এ পর্যন্ত মোট সুস্থতার সংখ্যা পৌঁছেছে ১৪,০৮৯ জনে। শেষ চব্বিশ ঘণ্টায় মৃত নারী রোগীটির বয়স ছিল ২১ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে এবং তাঁর মৃত্যু হয় খুলনায়।

অঞ্চলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের বাইরে বরিশাল বিভাগে আক্রাের সংখ্যা সবচেয়ে উদ্বেগজনক। সাত মাসের হিসাবে এই বিভাগে ৩,৩১২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এরপরেই চট্টগ্রাম বিভাগে ২,৬৫১ জন আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে। এ ছাড়াও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২,১২৯, উত্তরে ১,৫৯৭, এবং ঢাকা মহানগরের বাইরে ২,০৫৯ জন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। খুলনায় ভর্তি হয়েছেন ১,৯৪৮, ময়মনসিংহে ৬২০, রাজশাহীতে ৫৬৬, রংপুরে ৩৩০ ও সিলেট বিভাগে সর্বনিম্ন ৯৭ জন।

সাধারণত বর্ষা মৌসুমে, বিশেষ করে জুল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এডিস মশাবাহিত এই রোগের প্রকোপ তীব্র হয়। বৃষ্টির জমা পানির ছোট ছোট জলাধার মশার বংশবিস্তারের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোর অস্বাভাবিক আবহাওয়া, উষ্ণতার স্থায়িত্ব ও দ্রুত নগরায়ণ ডেঙ্গুর প্রচলিত মৌসুমি ধারায় পরিবর্তন এনে দিয়েছে। ফলে সংক্রমণ এখন আগেভাগেই শুরু হয় ও দীর্ঘস্থায়ী হয়। কীটতত্ত্ববিদদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসেও সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী থাকতে পারে।

স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নজরদারি প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআর জানিয়েছে, এই বছর আক্রান্তদের শরীরে ডেঙ্গু ভাইরাসের ডেন-৩ সেরোটাইপের আধিক্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা জানান, ডেঙ্গুর ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩ ও ডেন-৪ নামক চারটি সেরোটাইপ রয়েছে। কোনও ব্যাক্তি একবার একটি সেরোটাইপের সংক্রমণ কাটিয়ে উঠলে অন্য একটি সেরোটাইপে সংক্রমিত হলে তাঁলে শারীরিক জটিলতার ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়।