কক্সবাজারের উখিয়ায় অবস্থিত রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলো ঘুরে দেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর্গ। শুক্রবার বেলা পৌনে দুইটা থেকে বিকেল পৌনে পাঁচটা পর্যন্ত তিনি সেখানে মানবিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং রোহিঙ্গাদের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে কথা বলেন। তাঁর এই সফরে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের নেতৃত্বে দূতাবাসের একটি প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিল।
শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, রোহিঙ্গা সংকটে মানবিক সহায়তার বৃহৎ দাতা দেশ যুক্তরাষ্ট্র। তাদের প্রতিনিধিরা মূলত মার্কিন অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর সরেজমিন কার্যক্রম দেখতে এসেছিলেন। দলটি ক্যাম্পের বিভিন্ন সেবাকেন্দ্র ঘুরে দেখে এবং একটি পর্যবেক্ষণ মঞ্চ থেকে পুরো শিবিরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।
মিজানুর রহমানের বরাত দিয়ে জানা যায়, প্রতিনিধিদলের কাছে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, টেকসই ও মর্যাদাসম্পন্ন প্রত্যাবর্তন সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সহায়তা প্রার্থনা করেছেন। তারা স্বদেশে দ্রুত ফেরার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন।
সফর শেষে বিকেলে প্রতিনিধি দলটি কক্সবাজারে আরআরআরসির দপ্তরে কর্মকর্তাদের সাথে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বসে। বৈঠকে প্রতিনিধিরা জানতে চান, এখনও কি নতুন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসছে, কেউ কি মিয়ানমারে ফিরছে, এবং রাখাইনের চলমান পরিস্থিতি ও রোহিঙ্গাদের সাথে স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পর্ক কেমন। জবাবে আরআরআরসি কমিশনার জানান, প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ১০ জন রোহিঙ্গা সংঘাত, নিপীড়ন অথবা চিকিৎসার প্রয়োজনে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করছেন। দীর্ঘ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বন্ধ থাকা ও অপরাধমূলক কার্যকলাপে কিছু রোহিঙ্গার জড়িয়ে পড়ার ফলে স্থানীয় জনগোষ্টীর মধ্যে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে।
বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি ক্যাম্পে নিবন্ধনপ্রাপ্ত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৪ লাখ অতিক্রম করেছে। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পরের মাসগুলোতে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। গত নয় বছরে একজনকেও ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি, বরং গত দেড় বছরে রাখাইন থেকে নতুন করে প্রায় ১ লাখ ৫২ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখে।
সংশ্লিষ্ট তথ্য সূত্র ইঙ্গিত করে, প্রতিনিধিদল উখিয়ার ৪, ৬ ও ৮(পশ্চিম) নং ক্যাম্পে স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সরবরাহ, তথ্য নিবন্ধন ও রান্নার গ্যাস (এলপিজি) বিতরণ প্রক্রিয়া পরিদর্শন করে। ক্যাম্প ৬-এর একটি প্রারম্ভিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মাতৃত্ব ও শিশু স্বাস্থ্য, টিকা প্রদান, পুষ্টি, জরুরি চিকিৎসা, ওষুধের লভ্যতা এবং বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি, ইউএনএইচসিআর-এর সহায়তায় চলা তথ্য নিবন্ধন কেন্দ্র, নবাগত রোহিঙ্গাদের তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়া, আইওএমের অর্থায়নে এলপিজি বিতরণ এবং বিশ্ব খাদ্য পরিকল্পনার (ডব্লিউএফপি) ই-ভাউচার ভিত্তিক খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থাও তারা সরজমিনে দেখেন। ক্যাম্প-৪ এলাকায় প্রতিনিধি দলকে প্ল্যাকার্ড সহকারে স্বাগত জানায় এবং একই সাথে স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জোর দাবি তোলে।




