ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) নিয়মিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাদের স্বতন্ত্র চাকরি বিধিমালা (সার্ভিস রুলস) প্রণয়নের দাবিতে যে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে আসছিলেন, তা আগামী ৭ আগস্ট পর্যন্ত সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। শুক্রবার রাজধানীর দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল ভবনের সামনে আয়োজিত এক অবস্থান কর্মসূচি থেকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত চলা এই কর্মসূচি আজ পালন করা হয়। এর আগে ২৮, ২৯ ও ৩০ জুলাই প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত একই দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান তারা। তবে এসব কর্মসূচির সময়ও মেট্রোরেলের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ছিল, যাত্রীদের কোনো অসুবিধা হতে দেওয়া হয়নি।
কর্মীদের দাবি, ২০১৩ সালে ডিএমটিসিএল প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রায় এক যুগ পার হলেও প্রতিষ্ঠানের ৯০০-এর বেশি নিয়মিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীর জন্য এখনও কোনো পৃথক চাকরি বিধিমালা তৈরি করা হয়নি। অথচ ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর মেট্রোরেল চালুর পর থেকে তারা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। চাকরি বিধিমালার অভাবে চাকরির নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা, পদোন্নতি, বদলি এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনিশ্চয়তা ও বৈষম্য দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। এতে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।
আন্দোলনরত কর্মীরা জানান, ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ চাকরি বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশ দিলেও তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। পরে কর্মচারীদের দাবির মুখে ডিএমটিসিএলের ৭৩তম বোর্ড সভায় সার্ভিস রুলস অনুমোদিত হলেও তা কার্যকর না করে অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতামতের জন্য পাঠানো হয়। অনুমোদনের সাত মাস পার হলেও এ বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে জানান তারা।
তারা আরও জানান, ৩০ জুলাইয়ের বোর্ড সভায় সার্ভিস রুলস কার্যকরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সভাটি স্থগিত হয়ে যাওয়ায় এবং যাত্রীসেবার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তারা আগামী ৭ আগস্ট পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাকরি বিধিমালা কার্যকর না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। এতে জনভোগান্তি সৃষ্টি হলে তার সম্পূর্ণ দায় ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন আন্দোলনরত কর্মীরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএমটিসিএলের এক কর্মকর্তা জানান, সার্ভিস রুলস কার্যকর না হওয়ার মূল কারণ হলো একটি প্রকল্পকে আত্মীকরণ করতে না পারা। হাইকোর্টের রুলের কারণে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সেটি করা যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য মেট্রোরেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সার্ভিস রুলস কার্যকর করতে বিলম্ব করছে। সার্ভিস রুলস না থাকায় যখন যার সুবিধা হয় সেই নিয়মে লোকবল পদায়ন, অপছন্দের কর্মকর্তাদের নিপীড়ন এবং অভিজ্ঞতার শর্ত পরিবর্তন করে নিয়োগ দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।




