লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা দল টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছেছে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন দলটি এবারও একই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে, যদিও দুই আসরের দলের গঠনে কিছুটা পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। কাতারের লুসাইল স্টেডিয়াম থেকে নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়াম পর্যন্ত পথচলায় মাত্র সাড়ে তিন বছরের ব্যবধান, কিন্তু দলের মূল কাঠামো প্রায় অপরিবর্তিত।
কোচ লিওনেল স্কালোনির কাছে ২০২২ সালের স্কোয়াড ছিল এক আশীর্বাদ। সেই দলের গড় বয়স ছিল মাত্র ২৭ বছর। মেসি, আনহেল দি মারিয়া ও নিকোলাস ওতামেন্দির মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা দলে থাকলেও বাকিরা ছিলেন তরুণ। ২৬ সদস্যের দলে ৩০ বছর বয়স পার করেছিলেন মাত্র ৭ জন, যার মধ্যে দুজন ছিলেন গোলরক্ষক। পাপু গোমেজ ও মার্কোস আকুনার মতো অভিজ্ঞরা তরুণ এনজো ফার্নান্দেজ, রদ্রিগো দি পল ও হুলিয়ান আলভারেজদের পথ দেখিয়েছিলেন। প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে হোঁচট খেলেও শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জিতে কাতার থেকে ফিরেছিল আর্জেন্টিনা।
চার বছর পর সেই স্কোয়াডের বয়স ও অভিজ্ঞতা দুটোই বেড়েছে। দুই বিশ্বকাপের স্কোয়াডে পরিবর্তন এসেছে মোট ৯টি জায়গায়। তবে বেশিরভাগ পরিবর্তনই হয়েছে বেঞ্চে, একাদশের আশপাশে তেমন কোনো বড় পরিবর্তন নেই। ফুটবলকে বিদায় জানানো দি মারিয়া ও ফর্মের অভাবে বাদ পড়া পাওলো দিবালা—এই দুজনকে বাদ দিলে দুই বিশ্বকাপের একাদশে পার্থক্য খুঁজে পাওয়া কঠিন। ২০২২ ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনাল একাদশের সঙ্গে ২০২৬ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল একাদশ মেলালে দেখা যায়, শুধু একটি পরিবর্তন—দি মারিয়ার জায়গায় এসেছেন জুলিয়ানো সিমিওনে।
একই দলের ওপর ভরসা রেখে পারফর্ম করা সহজ ছিল না, তবে স্কালোনি তা করে দেখিয়েছেন। দি মারিয়া চলে যাওয়ার পর আর্জেন্টিনার বাঁ প্রান্ত অনেকটাই অকার্যকর হয়ে পড়েছে। নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর সঙ্গে দি মারিয়ার রসায়ন ছিল অসাধারণ, যা এখন আর নেই। তাগলিয়াফিকোর বয়স বেড়েছে, ফলে স্কালোনিকে মাঝমাঠ দিয়ে আক্রমণ সাজাতে হয়েছে। দিবালার মতো ক্রিয়েটিভ মিডফিল্ডারকে হয়তো মিস করেছেন তিনি, কারণ মাঝমাঠে প্রতিপক্ষের প্রেসিং সয় মাঠের ফাঁকা জায়গা ব্যবহার করার মতো খেলোয়াড়ের অভাব ছিল।
চার বছরে শাণিত হওয়া এনজো ফার্নান্দেজকে সেই জায়গায় ব্যবহার করেছেন স্কালোনি। ফার্নান্দেজ, দি পল ও ম্যাক আলিস্টার ভূমিকা পাল্টালেও নিজেদের কাজ ঠিকঠাক করে যাচ্ছেন। মাঝমাঠে নতুন সংযোজন হিসেবে এসেছেন জুলিয়ানো সিমিওনে, নিকো গঞ্জালেজ ও নিকো পাজের মতো তরুণ তারকা। তবে গত বিশ্বকাপের মতো তরুণদের ওপর সম্পূর্ণ ভরসা রাখতে পারছেন না স্কালোনি। কেবল জরুরি অবস্থায় মাঠে নামাচ্ছেন তাদের। ফলে দলের খুঁতগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচ বাদে প্রতিটি ম্যাচেই গোল হজম করতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। কেপ ভার্দে বাদে প্রতিটি নকআউট পর্বের ম্যাচ জিততে হয়েছে পিছিয়ে পড়ার পর। অভিজ্ঞতা ও চাপ সামলানোর অসাধারণ ক্ষমতার ওপর ভর করেই ফাইনাল পর্যন্ত এসেছে স্কালোনির দল।


