২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের খেলা নিয়ে রাজধানীর ফকিরাপুল ও পল্টন এলাকার কলোনিগুলোতে সমর্থকদের আবেগ ও উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। একটি কলোনির বাসিন্দা ও তার সহকর্মীদের মধ্যে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ম্যাচ নিয়ে নানা তর্ক-বিতর্ক দেখা যায়। সকালে একজন ব্রাজিলের সমর্থক নিজেকে অফিসে না পাঠানোর কারণ হিসেবে জানান, তিনি ব্রাজিলের হার সহ্য করতে পারবেন না। তার স্ত্রী তাকে ব্যঙ্গ করে বলেন, সহকর্মী মানে সহমর্মী হওয়া উচিত, আর ফিফার নিয়মে একটি দুর্বল দলের সাথে আরেকটি শক্তিশালী দলের খেলা ফেলা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।
কলোনির ছয় বছর বয়সী পর্তুগাল সমর্থক রাহাতকে উদ্দেশ করে এক তরুণ বলেন, তার দলের আয়ু আঠারো ঘণ্টা। এদিকে ফকিরাপুল মোড়ে এক পত্রিকা হকার বলেন, ভাগ্য ভালো যে খেলাটি ৭ তারিখে পড়েনি, কারণ মেসি, এমবাপ্পে ও হালান্ড—সবার সাথেই সাত নম্বর জড়িত। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা সমর্থকরা পর্তুগালকে 'পর্তুজিল' বলে ট্রল করেন এবং রাতে আর্জেন্টিনার জয়ের পর তারাও বিদায় নেয়।
পল্টন মোড়ে এক দৈনিকের সাহিত্য সম্পাদক, যিনি জার্মানির সমর্থক, তিনি শিল্পী ধ্রুব এষের বাসায় গিয়েছিলেন লেখা চাইতে। ধ্রুব এষ তাকে বলেন, আর্জেন্টিনা হারলে তিনি লিখবেন না। আবেগের কাছে বিবেকের মূল্য নেই বলে মন্তব্য করেন সম্পাদক। রাত দশটায় কলোনির ক্লাব থেকে ভারী গর্জন ভেসে এলে দ্রুত গুগল থেকে স্কোর দেখে সবাই চমকে যান। সেখানে কাওসার দুলাভাই মুরব্বি হিসেবে সবাইকে বলেন, আজ যে করেই হোক মিসরকে জিততে হবে। পেনাল্টি মিসের পর সবাই 'মেসি মিস' বলে চিৎকার করতে থাকেন।
আমজাদ সাহেব এসে পরিস্থিতি দেখে বলেন, এখানে তিন মুরব্বি আছে, চিন্তা নেই। মিম সাহেব আর্জেন্টিনার সমর্থক হিসেবে আফসোস করে বলেন, সারাদিন তারা বলেছে মিসর শক্তিশালী, আর তা সত্যি হয়ে গেল। মিসরের গোল বাতিল হলে হাসির রোল ওঠে। পরে মিসর দুই গোল করে লিড নিলে একজন বলেন, 'আল্লাহর মাইর, দুনিয়ার বাইর।' আরেকজন বলেন, তিন দিনের দুনিয়া—নেইমার, রোনালদো, মেসি—তিন পীরের বিদায়। পাল্টা গোল উৎসবে শেষ মুহূর্তে উত্তেজনা কেটে যায়।
ম্যাচ শেষে এক তরুণ বলেন, এভাবেও ফিরে আসা যায়। আরেকজন জবাব দেন, মাফিয়ার মান রেফারি বাঁচায়। পরিস্থিতি হাতাহাতির পর্যায়ে চলে গেলে কাওসার দুলাভাই কোমরে গামছা পেঁচিয়ে পরিবেশ ঠান্ডা করার নির্দেশ দেন। বাসায় ফিরে লেখকের স্ত্রী তাকে প্রশ্ন করেন, গোল হওয়ার মুহূর্তে কমেন্ট্রি বক্সের ঘোষণাকারীর কণ্ঠের তারতম্য লক্ষ্য করেছেন কিনা। অন্তর্জাল থেকে পক্ষ-বিপক্ষ, যুক্তিতর্ক, ফিফান্টিনা, ম্যাচ অব দ্য রেফারি, ক্লাব ফুটবলের নিয়মনীতি ও মেসি ইকোনমিকসের মতো শব্দের সঙ্গে পরিচিতি ঘটেছে সপ্তাহজুড়ে।


