কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক সম্প্রতি তাদের চ্যাটবট ক্লডের জেনারেট করা লেখায় ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। এই ঘোষণার পরপরই সেই ওয়াটারমার্ক মুছে ফেলার দাবি করা অসংখ্য অ্যাপের সৃষ্টি হয়েছে, যার একটি বড় অংশ প্রতারণামূলক বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন এক বিপদের সৃষ্টি করেছে, কারণ অনেক অ্যাপ কার্যকর ফলাফলের বদলে ক্ষতির কারণ হতে পারে।
ওয়াটারমার্ক মূলত একটি গোপন পরিসংখ্যানগত প্যাটার্ন, যা এআই মডেল শব্দ নির্বাচনের সময় তৈরি করে। ক্লড যখন কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়, তখন এটি এমনভাবে শব্দ বেছে নেয় যা সাধারণ মানুষের চোখে স্বাভাবিক মনে হয়, কিন্তু বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে তা শনাক্ত করা সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, "বিড়াল মেঝেতে বসে আছে" এই বাক্যটির পরিবর্তে মডেলটি "বিড়াল মাটিতে অবস্থান করছে"-এর মতো বিকল্প শব্দ ব্যবহার করতে পারে, যা একটি নির্দিষ্ট পরিসংখ্যানগত ধারা তৈরি করে। এই ধারাটিই পরে ওয়াটারমার্ক হিসেবে কাজ করে।
অ্যানথ্রপিকের দাবি, এই ওয়াটারমার্ক কপি করলেও থাকবে এবং সামান্য সম্পাদনায় তা নষ্ট হবে না। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যথেষ্ট পরিমাণে সম্পাদনা বা অন্য এআই দিয়ে লেখাটি পুনর্লিখন করালে এই ওয়াটারমার্ক দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বা সম্পূর্ণ মুছে যেতে পারে। বড় কোনো লেখার মধ্যে ছোট একটি অংশ ঢুকিয়ে দিলেও ওয়াটারমার্কের উপস্থিতি শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এই জটিলতাকে কেন্দ্র করে বাজারে যে ওয়াটারমার্ক অপসারণ অ্যাপগুলো এসেছে, সেগুলোর অনেকগুলোর কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে পরিসংখ্যানগত পদ্ধতিতে তৈরি ওয়াটারমার্ক অপসারণের দাবি করা অ্যাপগুলোকে সন্দেহের চোখে দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, কোন অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হয়েছে তা না জানা পর্যন্ত ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করা বা মুছে ফেলা প্রায় অসম্ভব।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, এসব অ্যাপ আসলে ওয়াটারমার্ক মুছে ফেলার বদলে কম্পিউটারে ম্যালওয়্যার বা ভাইরাস ইনস্টল করে দিচ্ছে। কিছু অ্যাপ শুধুমাত্র ছবির ওয়াটারমার্ক অপসারণে সক্ষম, কিন্তু লেখার ক্ষেত্রে তা অকেজো। এসব প্রতারণা থেকে বাঁচতে ব্যবহারকারীদের অ্যাপের দাবি যাচাই করা এবং স্বীকৃত কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পরই তা ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এআই প্রযুক্তির প্রসারের সাথে সাথে এই ধরনের প্রতারণার প্রবণতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে সপ্তাহে প্রায় দেড় বিলিয়ন মানুষ এআই টুল ব্যবহার করে, এবং তাদের অনেকেই ওয়াটারমার্ক অপসারণের চেষ্টা করবে। এই বিশাল চাহিদাকে পুঁজি করে প্রতারকরা আরও পরিশীলিত উপায়ে মানুষের ক্ষতি করতে পারে। গ্রিক নাট্যকার সোফোক্লিসের উক্তি মনে রেখে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে, কারণ এই অ্যাপগুলো ব্যবহারের সময় নিজের অজান্তেই ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন ব্যবহারকারীরা।




