ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকীকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান এই প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত বুধবার দুপুরে উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নের কালীরবাজারের কুলুরবাড়ি এলাকায় বালু বিক্রির একটি পয়েন্টে ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ইজারাদারের এক কর্মীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফুটেজে দেখা যায়, কথাবার্তার একপর্যায়ে ইউএনও ওই কর্মীকে বাঁ হাতে একটি এবং ডান হাতে আরেকটি—মোট দুটি থাপ্পড় দেন। এরপর র্যাবের এক সদস্য কর্মীটিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে ইউএনও তার হাত থেকে লাঠি কেড়ে নিয়ে তাকে চারবার আঘাত করেন। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুবুর রহমান ইউএনওকে থামানোর চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার দিনভর ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী তাঁর কার্যালয়ে ছিলেন না। সকাল থেকে বিভিন্ন কাজে তাঁর কার্যালয়ে আসা সেবাপ্রার্থীদের অনেকেই ফিরে যান। ইউএনওর অনুপস্থিতির কারণ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।
এরই মধ্যে বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত স্থানীয় ত্রিশাল পৌর এলাকায় সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমানের উপস্থিতিতে একটি হাসপাতালে ওই ঘটনা নিয়ে সমঝোতা বৈঠক হয়। বৈঠকে ইজারাদারের লোকজন ও বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের একপর্যায়ে ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী সেখানে উপস্থিত হয়ে গতকালের ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
বৈঠক শেষে ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, 'মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ের উদ্যোগে আমরা বসেছি। আমাদের মধ্যে এখন এ ধরনের কোনো বিষয় নেই।' মারধরের ঘটনা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'আইনসংগত কার্যক্রমের মধ্যে চলমান অবস্থায় হঠাৎ করে এ ধরনের একটা ঘটনা, তো অবশ্যই এটার জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করব। আমি দুঃখ প্রকাশ করি, ইভেন এটা আমি ফিলও করি।'




