রাজশাহী নগরের বোয়ালিয়া মডেল থানার পুলিশ উপশহরের ২ নম্বর সেক্টরের একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে মহানন্দা এগ্রোকেয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। বুধবার দিবাগত রাত একটার দিকে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় শিল্পনগরের বি-৩২৭ নম্বর কারখানায় অবস্থিত, যা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। ভবন মালিকও ওই দম্পতির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।
এ ঘটনার আগে গত ১২ এপ্রিল রাতে আমিনুল ইসলামের স্ত্রী ও কোম্পানির চেয়ারম্যান জেসমিন আরা খাতুনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। ১৭ দিন পর ২৮ এপ্রিল আদালতে মুচলেকা দিয়ে তিনি জামিনে মুক্তি পান। এরপর গত ১৪ মে তিনি ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে প্রধান আসামি রাজপাড়া থানার তেরখাদিয়া এলাকার আলমগীর কবির। তিনি আগে জেসমিন আরা ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির অভিযোগে পৃথক মামলা করেছিলেন। হত্যাচেষ্টা মামলার অন্য আসামিরাও প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের দাবি, লভ্যাংশ ও অংশীদারত্ব দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়। চুক্তিপত্র ও চেক প্রদান করা হলেও লভ্যাংশ বা অংশীদারত্ব ফেরত দেওয়া হয়নি। টাকা ফেরত চাইলে জেসমিন আরা ও আমিনুল ইসলাম তাদের বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দেন। বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগীরা আদালতের আশ্রয় নেন। বর্তমানে রাজশাহীর আদালতে তাদের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে ছয়টি মামলা চলমান। নাটোর, যশোর ও বগুড়ায় আরও তিনটি মামলা রয়েছে।
জেসমিন আরার হত্যাচেষ্টা মামলার আরজিতে তিনি উল্লেখ করেন, ১১ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে লাঠি ও বাঁশ দিয়ে তাকে মারধর করা হয়। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মনিরুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখেনি। থানায় আসার পর তিনি মাথায় অস্বস্তি বোধ করায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র দিয়ে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
গ্রেপ্তারের আগে মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে আমিনুল ইসলাম স্বীকার করেন, তিনি ব্যবসার উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তারা ব্যবসা করতে রাজি না হওয়ায় তিনি ধীরে ধীরে টাকা ফেরত দিচ্ছিলেন বলে দাবি করেন। তার বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির মামলায় টাকার অঙ্ক বেশি করে দেখানো হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুমা মুস্তারী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।




