বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয়ের পর যে দৃশ্যটি সবার নজর কেড়েছিল, তা হলো মাঠে পড়ে থাকা একটি ব্যানার। গোলপোস্টের পাশ থেকে এটি তুলে নেন জিওভানি লো সেলসো। কাপড়ের ভাঁজ খুলতেই দেখা যায়, তাতে বড় বড় অক্ষরে লেখা— ‘ফকল্যান্ডস আর্জেন্টিনার’। সঙ্গে সঙ্গে সতীর্থ ক্রিস্টিয়ান রোমেরো এসে ব্যানারের অন্য পাশ ধরেন। মেসির দুই অ্যাসিস্ট, এনজোর গোল, লাওতারোর হেড—এত গল্পের মাঝেও এই ব্যানার যেন হয়ে ওঠে অন্য এক চরিত্র।

প্রশ্ন উঠেছে, কড়া নিরাপত্তা ও ফিফার নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কীভাবে মাঠে এলো এই ব্যানার? এর পেছনে আছে একদল আর্জেন্টাইন সমর্থকের অসম্ভব জেদ, ঝুঁকি আর কিছু ভাগ্য। তারা একটি হোটেলের বিছানার চাদর কেটে তাতে কালো রং দিয়ে লেখাটি তৈরি করে। স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা ফাঁকি দিয়ে ভেতরে ঢুকতে সক্ষম হয় দলটি, তবে শেষ বাঁশি বাজার পাঁচ মিনিট আগে এক নিরাপত্তাকর্মীর চোখে পড়ে যায়। পুলিশের হুমকি আসতেই তারা ব্যানারটি মাঠে ছুড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।

ব্যানারটি গিয়ে পড়ে পেনাল্টি বক্সের কাছে। লো সেলসো যখন এটি তুলে নেন, তখনো তিনি জানতেন না এর ভেতরে কী লেখা। কিন্তু লেখাটা দেখার পর দেশপ্রেমের আবেগ আটকে রাখতে পারেননি। সতীর্থদের নিয়ে দর্শকদের সামনে তা তুলে ধরেন। উদযাপন শেষে গ্যালারির সমর্থকেরা এটি নিজেদের করে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে। আর্জেন্টিনা দলের কর্মী পাত্রিসিও আউবার পরম যত্নে সেটি কুড়িয়ে নিয়ে যান ড্রেসিংরুমে। পরে ইনস্টাগ্রামে ব্যানারের ছবি দিয়ে তিনি লেখেন, ‘যার জন্য প্রযোজ্য…এটি ভালো হাতেই আছে।’

আর্জেন্টাইন দৈনিক ‘লা নাসিওন’ জানিয়েছে, কাপড়ের টুকরাটি এখনো আর্জেন্টিনা দলের কাছেই রয়েছে। আগামী রোববার স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে দলের সঙ্গেই আবার মাঠে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর হয়তো বিশ্বকাপের অন্যান্য স্মারক, জার্সি ও ট্রফির পাশে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মিউজিয়ামে স্থান পাবে। ফিফা অবশ্য এই ব্যানার পেছনে থাকা ব্যক্তিদের শাস্তির প্রক্রিয়া শুরু করেছে। একটি সাধারণ হোটেলের চাদর, একটি স্প্রে পেইন্টের ক্যান আর অসম্ভব এক পরিকল্পনা—বিশ্বকাপের মতো মহামঞ্চে এক আবেগঘন ও চিরস্মরণীয় গল্প লেখার জন্য এইটুকুই যথেষ্ট ছিল।