শুক্রবার বরিশাল নগরীর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষণে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এ মন্তব্য করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ধর্মীয় অনুভূতি ও ধর্মীয় চর্চাকে হাতিয়ার করে কেউ যদি অন্যেরা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ব্যবহার করতে চায়, তাহলে সাধারণ ধর্মবিশ্বাসী মানুষই তাদের মুখোশ খুলে দেবে।

তথ্যমন্ত্রী রাজনীতি ও ধর্মের দর্শনের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরেন। তার ভাষায়, ধর্মীয় দর্শনের কেন্দ্রবিন্দু হলো সৃষ্টিকর্তা, পক্ষান্তরে রাজনীতির চিন্তা ও আদর্শ আবর্তিত হয় জনগোষ্ঠীর সার্বিক কল্যাণের ধারণাকে কেন্দ্র করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নেতাদের প্রতিটি উক্তি ও কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের মঙ্গল। একটি রাজনৈতিক দল বা নেতৃত্ব ততদিনই জনসমর্থন ও গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখতে পারবে, যতদিন তাদের কার্যক্রম জনগণ কল্যাণকর বলে বিবেচনা করবে।

তিনি মনে করিয়ে দেন, ‘আমাদের প্রধান লড়াইটি হচ্ছে অসৎের বিপক্ষে সতের, এবং মনুষ্যত্বের পরিপন্থীদের বিরুদ্ধে মনুষ্যত্বের লড়াই।’ তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, ধর্মীয় অনুশীলন তখনই সার্থক হবে, যখন ধর্মকে ব্যবহার করে যারা ব্যবসা করে তাদের সঠিকভাবে শনাক্ত করতে পারব। প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ ধর্ম নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে, আর সেই কারণেই অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতিও সমান শ্রদ্ধাশীল হওয়া জরুরি। তিনি সাবধান করে দিয়ে বলেন, যখনই কারও ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুশীলনকে কেউ কৌশলে একটি সাম্প্রদায়িক হাতিয়ারে পরিণত করার ষড়যন্ত্র করবে, তখনই সেই ধর্ম ব্যবসায়ীকে চিহ্নিত করার দায়িত্ব সকল ধর্মপ্রাণ মানুষের।

সনাতন ধর্মের উপাসকদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, নৌকা বা অন্য কোনো প্রতীকে যারা ভোট দিয়েছেন, তারা নিশ্চিতভাবে নিজেদের রাজনৈতিক, আর্থিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অধিকারের প্রয়োজনেই সেটি করেছেন। এতে তাদের কোনো ভুল হয়নি, ঠিক যেমনটি তারা পূর্ববর্তী কোনো নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়াকে নিজেদের স্বার্থে যুক্তিযুক্ত মনে করেছিলেন। তিনি পরিষ্কার করেন, কোনো রাজনৈতিক প্রার্থীই কোনো দেবতার প্রতিনিধি নন; তাদের সকল বক্তৃতা ও কর্মকাণ্ড জনগণের কল্যাণের জন্য নিবেদিত। যখনই তা জনগণ আর কল্যাণকর বলে মনে করবে না, তখনই সেই দল ও প্রতীককে বর্জন করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের উদ্ধৃতি টেনে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে আপনাদের রায়ে ক্ষমতায় যারা আছি, আমরা অনুধাবন করি যে, আপনাদের কাছে করা প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে না পারলে ইতিহাসের সেই পতনের ঘটনা আবারও ঘটতে পারে। এ কারণে আমাদের নেতা তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়েছেন, এবং আজ আবারও সেই বার্তা পুনর্ব্যক্ত করছি, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।’ এই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বরিশাল জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি মানিক লাল মুখার্জী।

পরে তথ্যমন্ত্রী বরিশাল সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে জানান, গণমাধ্যমের দায়বদ্ধতা ও পেশাদার সাংবাদিকতার চর্চা নিশ্চিত করতে একটি সর্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্য গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে চলছে।