যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা, টেনেসি ও আলাবামা অঙ্গরাজ্যে বৃহস্পতিবার বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগের মাধ্যমে তিন দণ্ডিত আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। গত ১৫ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে দেশটিতে প্রথমবারের মতো একই দিনে এতগুলো মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা ঘটল।
টেনেসি কারাকরণ কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ন্যাশভিলের সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত কারাগারে ৬৬ বছর বয়সী অ্যান্থনি হাইন্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ১৯৮৫ সালের মার্চে এক মোটেলের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও চার সন্তানের জননী ক্যাথরিন জেনকিন্সকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। এর আগে মে মাসে এই অঙ্গরাজ্যে আরেক দণ্ডিত আসামির সাজা কার্যকরের সময় চিকিৎসাকর্মীরা রক্তনালি খুঁজে না পাওয়ায় প্রক্রিয়াটি বাতিল করা হয়েছিল। সেই ব্যর্থতার পর এবারই প্রথম টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলো।
ওকলাহোমার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় নিশ্চিত করেছে, ম্যাকালেস্টার কারাগারে ৭০ বছর বয়সী কার্লোস কুয়েস্তা-রদ্রিগেজের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। ২০০৩ সালে নিজের লিভ-ইন সঙ্গী ওলিম্পিয়া ফিশারকে হত্যার দায়ে তাঁর এই দণ্ড কার্যকর করা হয়। অন্যদিকে আলাবামায় ৪২ বছর বয়সী জেরেমি উইলিয়ামসের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যিনি ২০২১ সালে পাঁচ বছর বয়সী কামারি হোল্যান্ড নামে এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে দণ্ডিত হয়েছিলেন।
ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের (ডিপিআইসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রে এটি এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নজির। এই তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মধ্য দিয়ে চলতি বছর দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে মোট ২২ জনের। এর মধ্যে ফ্লোরিডায় ১২ জন, টেক্সাসে ৪ জন, ওকলাহোমায় ৩ জন এবং অ্যারিজোনা, টেনেসি ও আলাবামায় একজন করে আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে ৪৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল, যা ২০০৯ সালের পর সর্বোচ্চ। ২০০৯ সালে দেশটিতে ৫২ জন কয়েদির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল। গত বছর কার্যকর হওয়া মৃত্যুদণ্ডগুলোর মধ্যে ৩৯টিতে বিষাক্ত ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়। বাকিদের মধ্যে তিনজনকে ফায়ারিং স্কোয়াড এবং পাঁচজনকে নাইট্রোজেন হাইপোক্সিয়া পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। নাইট্রোজেন হাইপোক্সিয়া পদ্ধতিতে মুখের মাস্কে নাইট্রোজেন গ্যাস পাম্প করা হয়, যার ফলে কয়েদি দমবন্ধ হয়ে মারা যান। এই পদ্ধতিকে নিষ্ঠুর ও অমানবিক আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ।
যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ২৩টিতে মৃত্যুদণ্ড প্রথা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত। ক্যালিফোর্নিয়া, ওরেগন ও পেনসিলভানিয়ায় এই দণ্ড কার্যকরের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মৃত্যুদণ্ডের সাজা আরও বৃদ্ধি করার আহ্বান জানিয়েছেন।




