ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা খাতে অর্থায়ন বৃদ্ধি এবং ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিবেশের উন্নতিতে ১২ দফা দাবি তুলে ধরেছে ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ। রোববার বিকেলে মধুর ক্যানটিনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে এসব দাবি জানানো হয়। সংগঠনটির সভাপতি দুর্জয় রায়, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মোস্তাকিম ও সাংগঠনিক সম্পাদক মিশকাতুল মাশিয়াত লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তাঁরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান নানা সংকটের দিকে আলোকপাত করেন।
গবেষণা বাজেট প্রসঙ্গে নেতারা জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনুমোদিত বাজেট শিক্ষার্থীদের মৌলিক চাহিদা পূরণে অপর্যাপ্ত। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সরাসরি কোনো গবেষণা বরাদ্দ দেয়নি। অথচ গত অর্থবছরে গবেষণার জন্য বরাদ্দ ছিল ২১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। সংগঠনটির মতে, ইউজিসির কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে, যা গবেষণার মানকে আরও নিম্নমুখী করবে।
ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ ও নিয়ন্ত্রণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ ও বিদ্যুৎ-সংযোগ ব্যবহার করে ছাত্রদলের উদ্যোগে এবং করপোরেট সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দায় ফুটবল বিশ্বকাপ দেখানো হচ্ছে। কিন্তু সেখানে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রতিটি খেলার সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। ভিড়ের কারণে নারী শিক্ষার্থীরা খেলা না দেখেই ফিরে যাচ্ছেন। এছাড়া টিএসসিতে মেট্রোস্টেশনের কারণে সৃষ্ট অনিয়ন্ত্রণযোগ্য ভিড় ও অব্যবস্থাপনা পাঠদান ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে।
ডাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে বলা হয়, নির্বাচনের ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও প্রশাসন বা ডাকসু কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ছাত্র ইউনিয়ন অবিলম্বে ডাকসু নির্বাচনকে একাডেমিক ক্যালেন্ডারের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানায়। একই সঙ্গে ডাকসুকে ছাত্রশিবিরের দলীয় প্ল্যাটফর্ম বানিয়ে এর গণমুখী ঐতিহ্য ক্ষুণ্ন করার অভিযোগও আনে সংগঠনটি।
শিক্ষার্থীদের আবাসন ও খাবারের মান নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেতারা। তাঁরা বলেন, প্রতিটি হলে, বিশেষ করে ছাত্রী হলগুলোতে তীব্র আবাসনসংকট ও মানবেতর জীবনযাত্রা শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছে। শিক্ষার্থীর তুলনায় ক্যানটিন ও খাবারের দোকানের সংখ্যা অপ্রতুল, এবং খাবারের পুষ্টিমান ও পরিবেশ অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর।
এমন পরিস্থিতিতে সংগঠনটি ১২ দফা দাবি তুলে ধরে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: ক্যাম্পাসে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, নারী শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ছাত্রী হলের বৈষম্যমূলক সান্ধ্য আইন বাতিল, ক্যাম্পাসে ‘মোরাল পুলিশিং’ ও হেনস্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল কার্যকর করা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে সব ধরনের করপোরেট প্রচারণা বন্ধ, প্রয়োজনীয় গঠনতান্ত্রিক সংস্কার সম্পন্ন করে যথাসময়ে ডাকসু নির্বাচন, গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সুপরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন, হল ও একাডেমিক ভবনে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ক্যানটিন চালু এবং শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি কার্যকর করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে শিল্প, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত এবং বিভিন্ন বিভাগ একীভূতকরণের যেকোনো উদ্যোগ অবিলম্বে বন্ধের দাবিও তুলে ধরে সংগঠনটি।




