বিশ্বকাপ ট্রফি এবার আর বুয়েনস এইরেসে ফেরেনি। ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের তিক্ততা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি আর্জেন্টিনা দল। সেই হতাশাজনক মুহূর্তের মধ্যে নীরবতা ভেঙেছেন রদ্রিগো দি পল। ম্যাচ শেষ হওয়ার প্রায় একদিন পর ইনস্টাগ্রামে একটি দীর্ঘ আবেগঘন বার্তা প্রকাশ করেন এই মিডফিল্ডার। সেখানে তিনি সমালোচকদের কড়া জবাব দেওয়ার পাশাপাশি প্রকাশ করেন শিরোপা না জয়ের কষ্টও।
লিওনেল মেসির ক্লাব সতীর্থ দি পল নিজের পোস্টে দাবি করেছেন, অনেকেই আর্জেন্টিনার পতন দেখার জন্য মুখিয়ে ছিলেন। তিনি লেখেন, ‘আজ আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, কত মানুষ আমাদের এই পতন দেখার অপেক্ষায় ছিল। আর্জেন্টিনা যা অর্জন করেছে, তা তারা পায়নি—তাই পুরো বিশ্বকাপজুড়ে তারা নানা ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়েছে। কারণ, আমাদের হাসি তাদের অস্বস্তিতে ফেলে, আমাদের খেলার ধরন তাদের বিরক্ত করে। তবে এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে আমাদের জার্সি আর ভালোবাসার আবেগ সবকিছুর ঊর্ধ্বে।’
বিশ্বকাপজুড়ে আর্জেন্টিনা রেফারি ও ভিআরের সিদ্ধান্তে বাড়তি সুবিধা পেয়েছে—এমন অভিযোগ বারবার উঠেছিল। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনা দল ও তাদের সমর্থকদের উদযাপনের ধরন নিয়েও সমালোচনা করেছিলেন অনেকে। দি পলের এই মন্তব্যকে এসব সমালোচনার জবাব হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ফিফার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে বিশ্বকাপ ফাইনাল বয়কটের ঘোষণা দিয়েছিলেন উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিন—এ প্রসঙ্গও আলোচনায় এসেছে।
বিশ্বকাপ ধরে রাখতে না পারার আক্ষেপও প্রকাশ করেন দি পল। তিনি লেখেন, ‘সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো, আমরা বিশ্বকাপটি আমাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারলাম না। সময় যত গড়াচ্ছে, আপনারা আমাদের বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে এই দলের সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক শুধু একটি ট্রফির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এই কঠিন সময় পার করার জন্য আমি সেই ভালোবাসাটুকুকেই আঁকড়ে ধরতে চাই। এই ব্যথা অনেক দিন থাকবে, তবে আজ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আমি আর্জেন্টাইন হওয়ার জন্য বেশি গর্বিত।’
এবারের বিশ্বকাপে দি পল নিজের সেরাটা দিতে পারেননি। ফাইনালে শুরুর একাদশে তাঁকে রাখা হয়েছিল, যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। সমালোচকদের একাংশ মনে করেন, তাঁর ফর্ম ভালো ছিল না। তবে স্কালোনি যুগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার হিসেবে পরিচিত দি পল। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০২১ ও ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাঁর এই পোস্টে দেশটির ফুটবলপ্রেমীরা নানা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অনেকে সমর্থন জানিয়েছেন, আবার কেউ কেউ সমালোচনাও করেছেন।




