বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত নাম আর্লিং হলান্ড। নরওয়ের এই সুপারস্টার গত বিশ্বকাপে নিজের দলকে শেষ ষোলো পর্যন্ত নিয়ে গেলেও ট্রফি জয়ের স্বাদ পাননি। তবে টুর্নামেন্টজুড়ে তিনি ছিলেন সবচেয়ে প্রিয় মুখগুলোর একটি। আজ তাঁর ২৬তম জন্মদিন উপলক্ষে ভক্তদের মনে করিয়ে দেওয়া যাক কেন তিনি এত পছন্দের।
মাঠের ভয়ংকর চেহারার বিপরীতে মাঠের বাইরে তাঁর সরলতা। ছয় ফুট পাঁচ ইঞ্চির এই ফরোয়ার্ড গোল উদযাপনে এবং সাধারণ আচরণে শিশুসুলভ ব্যক্তিত্বের পরিচয় দেন। এই বৈপরীত্যই তাঁকে ‘বেবি জায়ান্ট’ উপাধি এনে দিয়েছে। ভক্তদের সাথে সহজভাবে মিশে যান, তারকাসুলভ কোনো অহংকার নেই তাঁর মধ্যে।
ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি স্থিরতার প্রতীক। কৈশোরের বন্ধু ইসাবেল হগসেং ইয়োহানসেনের সাথে তাঁর সম্পর্ক এখনও অটুট। এই দম্পতির একটি সন্তান রয়েছে, তবে হলান্ড তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের বিষয়গুলো আলোর বাইরে রাখতে পছন্দ করেন। সন্তানের নাম বা ছবি কখনো প্রকাশ্যে আনেননি তিনি। এটিও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা বাড়ায়।
দলের প্রতি তাঁর অঙ্গীকার চোখে পড়ার মতো। গোল উদযাপনে সতীর্থদের আগে খোঁজেন, সাফল্য-ব্যর্থতা সব ভাগ করে নেন। বিশ্বকাপে নরওয়ের সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন তিনি, কিন্তু নিজের রেকর্ডের চেয়ে দলের সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দেন বলেই বারবার প্রমাণ মেলে।
হারকেও মেনে নিতে জানেন তিনি। শেষ ষোলো থেকে ছিটকে যাওয়ার পরও ভেঙে না পড়ে সতীর্থদের উৎসাহ দেন এবং ভক্তদের ধন্যবাদ জানান। দেশে ফেরার সময় একটি ট্যাক্সিডার্মি করা র্যাকুন হাতে নিয়ে আসেন যা ভক্তদের মধ্যে ভাইরাল হয়। এরপর সরাসরি ইতালিতে ছুটিতে চলে যান, যা দেখায় হার মেনে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা রয়েছে তাঁর।
হাস্যরস তাঁর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সামাজিক মাধ্যমে নিজের ওপর মিম-রিল দেখলে তিনি রেগে না গিয়ে বরং সেসব উপভোগ করেন। প্রায়ই মজার মন্তব্য ও উত্তর দিয়ে ভক্তদের মন জয় করেন। ফ্যাশন জগতেও সমান সক্রিয়। বিশ্বকাপ শেষে ডলচে অ্যান্ড গাব্বানার আলতা মোদা শোতে প্রেমিকাকে সাথে নিয়ে অংশ নেন। বিলাসবহুল ব্যাগের সংগ্রহ ও নিখুঁত স্টাইলিং তাঁকে তরুণদের মাঝে স্টাইল আইকনে পরিণত করেছে।
নতুন দেশের সংস্কৃতি জানতে আগ্রহী হলান্ড। টেক্সাসে বিশ্বকাপের সময় স্থানীয় পোশাক কেনা—কাউবয় টুপি, চামড়ার বুট, ওয়েস্টার্ন শার্ট—তা প্রমাণ করে। পাশাপাশি খাবারপ্রেমী তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ভারতীয় খাবার বিশেষ করে বাটার চিকেন, গার্লিক নান ও ল্যাম্ব চপস তাঁর প্রিয় তালিকায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন।
সবশেষে তাঁর কিউটনেসের কথাই বলতে হয়। লম্বা চেহারা, সোনালি চুল আর মিষ্টি হাসি—সব মিলিয়ে তরুণ ভক্তদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। মাঠের আক্রমণাত্মক ভূমিকা আর মাঠের বাইরের হাসিখুশি, নম্র ব্যক্তিত্ব মিলিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন ফুটবলের এক অনন্য তারকা।




