অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর ‘গ্রাম চিকিৎসালয়’-এর নতুন মৌসুম নিয়ে দর্শকদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের মধ্যেই সম্প্রতি মুখোমুখি হয়েছিলেন সিরিজটির প্রধান অভিনেত্রী আকাঙ্ক্ষা রঞ্জন কাপুর। মুম্বাইয়ের এক অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এই আড্ডায় গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার পটভূমিতে নির্মিত কমেডি-ড্রামাটির দ্বিতীয় পর্বের সাফল্য ও নিজের লড়াইয়ের দিনগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন তিনি। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই পরিচালক শরণ শর্মার সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছেন এই অভিনেত্রী, তবে সাক্ষাৎকারটির আগেই অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর কর্তৃপক্ষ তার ব্যক্তিগত প্রসঙ্গটি নিয়ে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না বলে কড়া নির্দেশনা দিয়েছিল।

নতুন মৌসুমের সাফল্যে বিস্মিত নন আকাঙ্ক্ষা। তাঁর বিশ্বাস, গল্পের ওপর প্রথম থেকেই ছিল অগাধ আস্থা। চিত্রনাট্যের গভীরতা এবং টিভিএফের সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে আগেই প্রতীতি হয়েছিল যে প্রযোজনাটি দর্শকের মন জয় করবে। তার ভাষ্যমতে, ‘আমি কোনো প্রজেক্টেই তখনই স্বাক্ষর করি যখন তাতে পূর্ণ আস্থা থাকে। শুটিংয়ের সময় টিমের নিবেদনও ইঙ্গিত দিচ্ছিল যে বিশেষ কিছুই তৈরি হচ্ছে। কিন্তু চূড়ান্ত বিচার তো দর্শকের হাতেই ছিল।’ প প্রথম পর্বের জনপ্রিয়তা দ্বিতীয় মৌসুমের জন্য পথ অনেকটা মসৃণ করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। নির্মাতারা দর্শকদের মতামতের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন, যার ছাপ দেখা গেছে নতুন পর্বগুলোতে চরিত্রগুলোকে আরও গভীরভাবে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে।

বলিউডের ‘ইনসাইডার-আউটসাইডার’-এর বিতর্কিত প্রসঙ্গে আকাঙ্ক্ষার দৃষ্টিভঙ্গি একদমই আলাদা। তার মতে, জন্মপরিচয়ের চেয়ে যে কোনো শিল্পীর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ই শেষ কথা বলে। ১৯ বছর বয়স থেকে অডিশনের এই দীর্ঘ যাত্রায় মাত্র ১ শতাংশের জন্নপথটা সহজ হয়, বাকি সবাইকে প্রতিনিয়ত প্রত্যাখ্যানের মুখোমুখি হয়ে ঘুরে দাঁড়াতে হয়। ২০১৩ সালে শুরু হওয়া এই অদম্য সংগ্রামের অবসান ঘটে ২০১৯ সালে ‘গিলটি’ সিনেমার মাধ্যমে প্রথম সুযোগ পাওয়ার পর। সাত বছরের এই অপেক্ষায় সংসারের উপর ভর না করে নিজেই স্বাধীনভাবে সব খরচ চালিয়েছেন। সেই সময়ে একটি জনসংযোগ সংস্থায় কাজ এবং ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার অভিজ্ঞতা তাকে ধৈর্যশীল ও পরিণনত করেছে।

শক্তিশালী এবং বহুমাত্রিক নারী চরিত্রের প্রতি তার অনুরাগই তাকে বড় পর্দায় টেনে আনে। তবে টেলিভিশনের প্রতি দুর্বলতাও কম নয়। নীনা গুপ্তা এবং দিব্যা দত্তর অভিনীত পুরনো ধারাবাহিকের স্মৃতি এখনও তাকে আন্দোলিত করে। শহুরে পাত্রেই নিজেকে বেশি মানানসই মনে করার প্রচলিত ধারণাও নাকচ করছেন এই অভিনেত্রী। ‘গ্রাম চিকিৎসালয়’-এর ডা. গার্গীর চরিত্রে অভিনয়ের তৃপ্তির কথা জানিয়ে বলেন, চরিত্রের মূল বিষয় তার আবেগ ও উদ্দেশ্য, ভৌগোলিক পরিচয় নয়।

সিরিজের মূল উপজীব্য গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রসঙ্গে আকাঙ্ক্ষা দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, মানসম্মত চিকিৎসা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। তবে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তনই রাতারাতি হয় না। এই বিশ্বাসের মূলে রয়েছে মধ্যপ্রদেশের বালাঘাটে শুটিংয়ের সময় স্থানীয় হাসপাতালে পাওয়া বাস্তব অভিজ্ঞতা। প্রত্যন্ত এলাকার সুশৃঙ্খল ও আন্তরিক স্বাস্থ্যসেবা দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। তাঁর মতে, এসবই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধীরে ধীরে ঘটে চলা ইতিবাচক পরিবর্তনেরই ছোট্ট উদাহরণ এবং ভবিষ্যতের জন্য আশার আলো।