রাজধানীর পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে প্রকাশ্যে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ (৩৯) হত্যার ঘটনায় বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোসাদ্দেক মিনহাজ গত রোববার দুপুরে এ মামলায় ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি আগামী ১৯ জুলাই সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। আদালতের বেঞ্চ সহকারী এ এস এম শাহাদাৎ আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

গত বছরের ৯ জুলাই সন্ধ্যা ছয়টার দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে একদল দুর্বৃত্ত লাল চাঁদকে এলোপাতাড়ি পাথর দিয়ে আঘাত করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। পরদিন নিহতের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম কোতোয়ালি থানায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

প্রায় ছয় মাস তদন্ত শেষে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর কোতোয়ালি থানার (বর্তমানে শাহবাগ থানা) তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান আদালতে ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। তবে তদন্তে ত্রুটি থাকায় আদালত পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে চলতি বছরের ১০ মে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ পুনঃতদন্ত শেষে ওই ২১ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, শুনানির সময় আসামিপক্ষ মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করে। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করলে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। এ সময় উপস্থিত আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।

এ মামলায় বর্তমানে ১০ আসামি কারাগারে আছেন। তাঁরা হলেন মাহমুদ হাসান মাহিন ওরফে মাহমুদুল হাসান (মহিন), মো. তারেক রহমান রবিন, মো. টিটন গাজী, মো. আলমগীর, মো. মনির ওরফে লম্বা মনির, মো. সজীব ব্যাপারী, মো. নানু কাজী, মো. রিজওয়ান উদ্দীন ওরফে অভিজিৎ বসু, মো. জহিরুল ইসলাম ও মো. সাগর। অন্যদিকে আসামি মো. রুমান ব্যাপারী, মো. আবির হোসেন ও মো. পারভেজ উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন। বাকি আসামি জহিরুল, মো. ইমরান, মো. শারাফাত ওরফে শফিউল ইসলাম, মো. জিয়াউদ্দিন রাজীব, মো. হোসেন চৌকিদার, মো. সারোয়ার হোসেন টিটু, মো. মঙ্গল মিয়া ওরফে মনির হোসেন এবং অপু দাস পলাতক।

নিহত লাল চাঁদ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পূর্ব নামাবাড়ি গ্রামের ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিটফোর্ড এলাকার রজনী ঘোষ লেনে ভাঙারি ব্যবসা করতেন। হত্যার এক বছর পরও মামলার বিচার শুরু হয়নি এবং পলাতক আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করায় নিহতের পরিবার হুমকির মুখে রয়েছে বলে জানা গেছে।