চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় আজ রোববার বিকেলে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মহিবুল্লাহ বাবুনগরীসহ সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সাক্ষাতে হেফাজতকে বিএনপির পাশে আগের মতোই থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ী সফরে যান এবং সেখান থেকে বাঁশখালীতে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেন। পরে হেলিকপ্টারযোগে বাঁশখালী থেকে ফটিকছড়ি পৌঁছান তিনি। ফটিকছড়ির পেলাগাজী দিঘির মাঠে হেলিকপ্টার থেকে নামার পর স্থানীয় নেতা-কর্মীরা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। সেখান থেকে সড়কপথে মাদ্রাসার উদ্দেশে রওনা দিলে পথের দুই ধারে জড়ো হওয়া হাজারো মানুষ তাঁকে শুভেচ্ছা জানান।

মাদ্রাসায় পৌঁছে হেফাজত আমির আল্লামা শাহ মহিবুল্লাহ বাবুনগরীকে বুকে জড়িয়ে ধরে দোয়া চান প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক সম্পর্কে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী গণমাধ্যমকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাদের বলেছেন, নির্বাচনের আগে যেমন তারা একসঙ্গে ছিলেন, এখনও যেন সেই সম্পর্ক অটুট থাকে। জবাবে তারা প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছেন যে, ইসলাম ও দেশের কল্যাণে তিনি যতক্ষণ দৃঢ় থাকবেন, তারা তার পাশে থাকবেন। হেফাজতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৯ দফা লিখিত দাবি তুলে ধরা হয়েছে বলেও জানান এই নেতা।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং সংসদ সদস্য সরোয়ার আলম ও গিয়াস কাদের চৌধুরী।

বৈঠক শেষে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে তিনি হুজুরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি আসবেন। সরকার গঠনের পরদিনই রোজা শুরু হয়েছিল। 'ফ্যাসিবাদের মাথা' পালিয়ে গেলেও তাদের অনেক কিছুই থেকে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোজার সময় কেউ কেউ সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছে। রোজা শেষ হতে না হতেই মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-আমেরিকা সংকট শুরু হওয়ায় তেল-জ্বালানিসহ পুরো অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিগত নির্বাচনের সময় তারা একসঙ্গে কাজ করে দেশকে বিপদ থেকে রক্ষা করেছেন। তবে সমস্যা এখনও শেষ হয়নি। বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে কীভাবে দেশের মানুষের অর্থসম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে, সেটি সবাই দেখেছেন। গ্যাস সংকটের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, আল্লাহর রহমতে আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে এই সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। বিদ্যুৎ সমস্যার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের পরিকল্পনাহীন কর্মকাণ্ডের খেসারত দিতে হচ্ছে দেশের মানুষকে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েক দিন ধরে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। নির্বাচনের আগে যেভাবে তারা একসঙ্গে কাজ করেছেন, আগামীতেও সেই ঐক্য বজায় রাখতে চান তিনি। হেফাজতের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। দেশের মানুষের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও কল্যাণে সবার দোয়া কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ধার্মিক মানুষ। তাদের সঙ্গে হেফাজতের সম্পর্ক রাজনৈতিক নয়, এই সম্পর্ক বজায় থাকবে। তিনি দেশের শান্তিশৃঙ্খলা ও উন্নয়নের জন্য দোয়া চেয়েছেন। বক্তব্য শেষে হেফাজতের আমির প্রধানমন্ত্রী ও দেশের কল্যাণ এবং দেশকে শত্রুমুক্ত রাখতে দোয়া করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী হাটহাজারী গিয়ে হেফাজতের সাবেক আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী ও আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর কবর জিয়ারত করেন।