বিনোদন জগতের ব্যস্ত সূচি থেকে মুক্তি পেতে বলিউড তারকা সালমান খান প্রায়ই ছুটিে যান মুম্বাইয়ের কোলাহল থেকে বহু দূরে তার স্বপ্নের ঠিকানায়। এই জায়গাটি তার কাছে নিছক একটি বাড়ি নয়, বরং এক টুকরো মানসিক শান্তি। পানভেলে অবস্থিত এই বিশালাকার খামারবাড়ি প্রসঙ্গে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তার ভগ্নিপতি অভিনেতা আয়ুশ শর্মা একটি মজার তথ্য ফাঁস করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই ফার্মহাউজে গিয়ে সবাই মজায় মেতে ওঠেন ঠিকই, কিন্তু ফিরে আসার ব্যাপারে একক সিদ্ধান্ত নেন স্বয়ং সালমান খান। যতক্ষণ না ‘ভাই’ অনুমতি দেন, ততক্ষণ পর্যন্ত নাকি সেখানে ফেরার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এই কথোপকথনের মাধ্যমেই অনুরাগীদের মাছে আবারও কৌতূহল জাগে সালমানের এই বহু পরিচিত প্রিয় জায়গাটি সম্পর্কে।
মহানগরীর গতিঝড় থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পানভেলের এই খামারবাড়িটি যেন ভিন্ন এক জগতের প্রতিচ্ছবি। বিশাল এই ভূসম্পত্তিতে চাষাবাদের জন্য আছে ধানের জমি ও সবজি বাগান। অভিনেতা সালমান খানের কৃষি প্রীতি এতটাই গভীর যে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাক্টর চালানোর কাজও সারেন। ধানের চারা রোড়ণ থেকে শুরু করে বাগান পরিচর্যা—এসব কাজে তিনি সরাসরি সময় দেওয়া পছন করে। করোনা ভাইরাসের কারণে জারি হওয়া লকডাউনের দীর্ঘ সময়টা তিনি প্রায় পুরোটাই এই ফার্মহাউজে অতিক্রম করেছেন। সে সময় পারিবারিক সদ্যদের সঙ্গে তার কৃষিকাজ, ঘোড়ায় চড়া ও প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানোর নানান ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়েছিল।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এখানে। একটি বিশাল সুইমিং পুল ছাড়াও আছে কৃত্রিমভাবে তৈরি লেক ও ছোট ছোট টিলা। তবে শুধু প্রকৃতিই নয়, এ খামারবাড়ি যেন একটি খণ্ডকালীন প্রাণীজগত। এখানে ঘোড়া, গাভী, ছাগল ও খরগোশসহ বিভিন্ন প্রাণীর সমাগম ছিল। জানা যায়, এক সময় এখানে ১১টি ঘোড়া ছিল। সময় কাটানোর জন্য সালমানের নির্দিষ্ট একটি রুটিন আছে। কাজের ফাঁকে সময় পেলেও তিনি অলস হয়ে বসে থাকেন না। ব্যায়াম করা, ছবি আঁকা, বা প্রকৃতির কোলে নীরবে হাঁটাহাটি করাই তার নিত্যদিনের অভ্যাস।
এই খামারবাড়ি শুধু ব্যক্তিগত অবকাশ যাপনের জন্যই ব্যবহৃত হয় না, এটি পারিবারিক ও সামাজিক জমায়েতের কেন্দ্রবিন্দু। সালমানের জন্মদিনের বেশ কিছু অনুষ্ঠানের আয়োজন এই মনোরম পরিবেশেই সম্পন্ন হয়েছে। শুধু তাই নয়, করোনাকালের সংকটময় মূহুর্তে এই স্থানটিই তার মানবসেবার সদর দপ্তরে পরিণত হয়েছিল। এখান থেকেই তিনি বিভিন্ন প্রকার ত্রাণ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণে সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করেছিলেন। তার সুপরিচিত ‘বিয়িং হাংরি' দাতব্য উদ্যোগের অনেকটা কার্যক্রমও এই খামারবাড়ি থেকে সরাসরি পরিচালিত হত। আয়ুশ শর্মার বর্ণনায় পরিষ্কার, ফার্মহাউজে ঢোকার ক্ষেত্রে নিজের স্বাধীনতা থাকলেও, প্রস্থানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এককভাবেই ‘ভাইজানের' ওপর নির্ভর করে।




