বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী ভীমরুলির ভাসমান পেয়ারাবাজার পরিদর্শন করেছেন। রোববার সকালে তিনি স্ত্রী ডিয়ান ডাওকে সঙ্গে নিয়ে নৌকায় চড়ে বাজার ও সবুজ পেয়ারার বাগান ঘুরে দেখেন। এ সময় স্থানীয় চাষি ও বাগানমালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি এবং পেয়ারার চাষ, উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
ভীমরুলির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ভাসমান বাজারের কর্মচাঞ্চল্য দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন বলে জানান। বাজারের গতিশীলতা, কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং পেয়ারার উৎকৃষ্ট মান তাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এই অঞ্চলের প্রকৃতি, পানির ওপর ভাসমান বাজার এবং স্থানীয় মানুষের জীবনধারা তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। তিনি ভীমরুলিকে বাংলাদেশের একটি অসাধারণ প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদ হিসেবে অভিহিত করেন।
ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে রাষ্ট্রদূতের এই সফরের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। ছবির ক্যাপশনে বলা হয়েছে, ভীমরুলির ভাসমান বাজারে নৌকায় ঘোরার পাশাপাশি পেয়ারার স্বাদ নিয়ে চমৎকার সময় কাটিয়েছেন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন। বরিশালে পৌঁছানোর পর দূতাবাসের ফেসবুক পেজে আরও কিছু ছবি পোস্ট করা হয়, যেখানে লঞ্চের ডেকে বসে নদীপথের সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেখা যায় তাকে। সেসব ছবির ক্যাপশনে রাষ্ট্রদূতের বরাত দিয়ে লেখা হয়েছে, নদীপথে লঞ্চে করে অপরূপ জলপথের এই জনপদ ঘুরে দেখছেন তিনি এবং বরিশালে এসে তার ভালো লাগার কথা ব্যক্ত করেছেন।
রাষ্ট্রদূতের এই পরিদর্শন স্থানীয় পেয়ারাচাষি ও বাগানমালিকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও উৎসাহ সৃষ্টি করেছে। বর্ষাকালে খাল-বিলের সৌন্দর্য আর নৌকায় পেয়ারা কেনাবেচার দৃশ্য দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে এই ভাসমান বাজারকে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম কৃষিভিত্তিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৯ সালে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার ভীমরুলির এই ভাসমান পেয়ারাবাজার পরিদর্শন করেছিলেন। সেবারও তিনি নৌকায় হাট ঘুরে দেখার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় অংশ নিয়েছিলেন।




