নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বীরগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক গোলাম মুর্শিদকে (৩০) আটক করে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং মারধরের অভিযোগ উঠেছে দিনাজপুরের কয়েকজন ছাত্রদল কর্মীর বিরুদ্ধে। শনিবার (১৯ জুলাই) রাত নয়টার দিকে শহরের সরকারি কলেজ মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত পৌনে একটার দিকে মুর্শিদকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অন্যদিকে, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করা হয়েছে।

গোলাম মুর্শিদ দিনাজপুর জজ কোর্টে একজন আইনজীবীর সহকারী হিসেবেও কর্মরত। পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় তিনি তার চাচার ব্যক্তিগত গাড়ি মেরামত করানোর উদ্দেশ্যে শহরের মির্জাপুর টার্মিনাল এলাকার একটি গ্যারেজে যান। রাত নয়টার দিকে দিনাজপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের এক কর্মী ফোন করে তাকে কলেজ মোড়ে ডেকে নেন। সেখানে পৌঁছালে ওই শাখার কর্মী আব্দুল্লাহ আল আমান ও আসিফ শাহরিয়ার চৌধুরী তাকে ধরে কলেজের প্রধান ছাত্রাবাসে নিয়ে যান।

পরিবারের অভিযোগ, ছাত্রাবাসে নিয়ে মুর্শিদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। তার মুঠোফোন ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। পরিবার চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। পরিবারের আরও বক্তব্য হলো, এ ঘটনা কলেজ শাখা ও জেলা ছাত্রদলের নেতাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে রাত পৌনে একটার দিকে কলেজের উত্তর গেটেও তাকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

তবে কলেজ শাখা ছাত্রদলের কর্মী (সভাপতি প্রার্থী) আব্দুল্লাহ আল আমান এই সকল অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি পাল্টা দাবি করে বলেন, “মুর্শিদ তার নিজ এলাকা বীরগঞ্জ থেকে পালিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে শহরে অবস্থান করছিল। গত এক মাস ধরে শহরের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নিয়ে গোপন বৈঠক করে আসছিল। শনিবার রাতে তারা একটি প্রাইভেট কারে চারজন ছিল। বীরগঞ্জের স্থানীয় ও সরকারি কলেজের কয়েকজন ছাত্র তাদের আটক করতে গেলে বাকি তিনজন পালিয়ে যায়। পরে একমাত্র মুর্শিদকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।” চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট বলেন, “এখানে চাঁদা চাওয়ার মতো কোনো ঘটনা একেবারেই ঘটেনি।”

ঘটনাস্থলে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকারিয়া হাবিব উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। মুঠোফোনে তিনি বলেন, “ওরা কয়েকজন বীরগঞ্জ থেকে এসে শহরে মিছিল করে চলে যায়। দুই দিন আগেও পাঁচবাড়ি এলাকায় তারা মিছিল করেছে। সেই মিছিলে মুর্শিদও ছিল, আমাদের কাছে তার ছবি ও ভিডিও আছে। এই কারণে কলেজ শাখা ছাত্রদলের ছেলেরাই তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।” তিনিও চাঁদার অভিযোগকে সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন।

দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুজ্জামান ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, ছাত্রলীগ নেতাকে আটকের সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং তাকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে আনা হয়। রাতে তাকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, উত্থাপিত সকল অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা হবে এবং আটক ওই নেতার বিরুদ্ধে কোনো পূর্ববর্তী মামলা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।