মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় যমুনা নদীর করাল গ্রাসে পড়েছে চরকালিকাপুর শুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠানটির সীমানাপ্রাচীরের একাংশসহ আশপাশের অন্তত ১৫টি বসতবাড়ি ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের কবলে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে আরও অর্ধশতাধিক বসতভিটা ও চাষের জমি। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ১৮ হাজার বালুভর্তি জিও ব্যাগ বরাদ্দ দিয়েছে এবং সেগুলো ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, অস্থায়ী এই ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন একটি স্থায়ী বাঁধ।
স্থানীয় সূত্র ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৯৮১ সালে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চরকালিকাপুর গ্রামে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন নদীটি ছিল বেশ দূরে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে চারতলা, তিনতলা ও দোতলা—মোট তিনটি ভবন রয়েছে। গত কয়েক বছরে যমুনার ভাঙন মাদ্রাসার কাছাকাছি চলে এসেছে। গত বছর বর্ষায় ভাঙন শুরু হলে মাদ্রাসার সামনে প্রায় ২০০ মিটার এলাকায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে প্রতিরোধের চেষ্টা করে পাউবো। তবে এবারও সেই একই চিত্র। মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মাওলানা মুহাম্মদ বাকি বিল্লাহ বলেন, তিন দিন আগে সীমানাপ্রাচীরের একাংশ নদীতে ধসে পড়ে। ভাঙন ঠেকাতে গত ১৩ জুন থেকে জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হলেও ভাঙনের তীব্রতা এত বেশি যে তা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, যদি আগে থেকেই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হতো, তাহলে এমন পরিস্থিতি এড়ানো যেত।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি বছরের বর্ষায় নদী নতুন করে ভাঙন শুরু করলে পুরোনো জিও ব্যাগগুলো নদীতে তলিয়ে যায়। এরপর ভাঙন বাড়তে থাকলে ১৩ জুন থেকে পুনরায় জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। তবে প্রতিরোধ খুব একটা কার্যকর হচ্ছে না। ইতিমধ্যে মাদ্রাসার সীমানাপ্রাচীরের একাংশ ধসে পড়ার পাশাপাশি আশপাশের ১৫টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। ঝুঁকিতে থাকা অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি ও ফসলি জমির ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যমুনাবেষ্টিত দৌলতপুর উপজেলায় প্রতি বছরই অসংখ্য বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও স্থাপনা ভাঙনের শিকার হয়। বাচামারা, বাঘুটিয়া ও চরকাটারি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা ইতিমধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে। বিশেষ করে চরকাটারি ইউনিয়ন প্রায় মানচিত্র থেকেই হারিয়ে গেছে। গত এক মাসে বাঘুটিয়া ইউনিয়নে ৩০টির বেশি পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়েছে। অনেকে ভাঙনের ভয়ে ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন পাউবোর মানিকগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান। তিনি বলেন, গত বছর মাদ্রাসার আশপাশে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল, কিন্তু নদীর পাড় বালুমাটির হওয়ায় ভাঙন ঠেকানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। এবার ১৮ হাজার জিও ব্যাগ বরাদ্দ পাওয়া গেছে এবং ১০ জুন থেকে কাজ শুরু হয়েছে। তিনি আরও জানান, দৌলতপুরে নদীভাঙন ঠেকাতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।




