কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের ফলে কোম্পানিগুলোর প্রকৃত মুনাফা বা রিটার অন ইনভেস্টমেন্ট (ROI) ঠিক কতটা বাড়ছে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। ওপেনএআই-এর প্রকাশিত ৬৯ পৃষ্ঠার একটি বিস্তারিত প্রতিবেদনে এই বিষয়টি উঠে এসেছে। গত ১১ আগস্ট প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, যেসব প্রতিষ্ঠান এআই ব্যবহার করছে তারা অন্যদের তুলনায় এগিয়ে থাকছে। তবে প্রতিবেদনের ভেতরের সূক্ষ্ম তথ্যগুলো ভিন্ন কথা বলছে।
গবেষণার ৩৫ নম্বর পৃষ্ঠার একটি টেবিলে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, একজন কর্মচারীর মাধ্যমে আসা আয় (revenue per employee) এবং ওই কর্মচারীর এআই ব্যবহারের পরিমাণের (যেমন: মেসেজ পাঠানো বা টোকেন ব্যবহার) মধ্যে কোনো পরিসংখ্যানগত সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, এআই বেশি ব্যবহার করলেই যে কোম্পানির আয় বাড়বে, তেমন কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে এটি দেখা গেছে যে, যেসব বড় ও লাভজনক কোম্পানি আগে থেকেই বেশি আয় করছে, তারা দ্রুত চ্যাটজিপিটি-র মতো প্রযুক্তি গ্রহণ করেছে। সংক্ষেপে, ধনী কোম্পানিগুলো এআই ব্যবহার করছে, কিন্তু এআই ব্যবহারের কারণে তারা আরও ধনী হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা যায়নি।
প্রতিবেদনের আরেকটি চমকপ্রদ তথ্য হলো, প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীরা সবচেয়ে কম এআই ব্যবহার করছেন। ২৯ নম্বর পৃষ্ঠার গ্রাফ অনুযায়ী, সাধারণ কর্মচারীদের তুলনায় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাপ্তাহিক মেসেজ পাঠানোর হার অনেক কম। এই বিষয়ে ওপেনএআই-এর সিএফও সারা ফ্রায়ার উল্লেখ করেছেন যে, প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা মূলত তাদের মাধ্যমেই আসে যারা কাজের সাথে সরাসরি যুক্ত। তাই নেতাদের উচিত মাঠপর্যায়ের কর্মীদের কাছ থেকে শেখা এবং পুরো সংস্থাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করা।
ব্যবসায়িক প্রসারের ক্ষেত্রেও কিছু উত্থান-পতন লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এন্টারপ্রাইজ পর্যায়ে এআই-এর ব্যবহার স্থবির হয়ে পড়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সময়ে অ্যানথ্রোপিক-এর 'ক্লড কোড' (Claude Code) ব্যাপক জনপ্রিয় হওয়ায় ওপেনএআই কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল। তবে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এই ব্যবহার পুনরায় দ্রুতগতিতে বাড়তে শুরু করে।
এই ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে এবং আইপিও-র দিকে এগিয়ে যেতে ওপেনএআই তাদের নেতৃত্বে পরিবর্তন এনেছে। ডেনিস ড্রেসারের স্থলাভিষিক্ত হয়ে নতুন চিফ রেভিনিউ অফিসার (CRO) হিসেবে যোগ দিয়েছেন ডালি রাজিক। ড্রেসার এক বছরেরও কম সময় এই পদে ছিলেন। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজিকের মূল লক্ষ্য হবে গ্রাহকদের এআই গ্রহণের হার বাড়ানো এবং ব্যবসায়িক প্রভাব পরিমাপ করতে সহায়তা করা।
এদিকে, এই গবেষণার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। প্রতিবেদনে পাঁচজন লেখকের মধ্যে তিনজন ওপেনএআই-এর কর্মী এবং দুজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। যদিও কলাম্বিয়া বিজনেস স্কুল এবং হোয়ার্টনের অধ্যাপকদের নাম যুক্ত করা হয়েছে, তবে একটি ফুটনোটে জানানো হয়েছে যে তারা ওপেনএআই-এর বেতনভুক্ত ঠিকাদার হিসেবে এই কাজে অংশ নিয়েছেন। সব মিলিয়ে, এই প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত দেয় যে এআই-এর প্রভাব বুঝতে কেবল প্রচারের ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা করাই শ্রেয়।



