দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় আসামি বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দুই প্রকৌশলী। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা থাকা সত্ত্বেও চলতি বছরের মার্চ মাসে পদোন্নতির জন্য দুদকের কাছ থেকে নেওয়া অনাপত্তিপত্রে সেই মামলার কোনো তথ্যই উল্লেখ করা হয়নি। মঙ্গলবার এ ঘটনা প্রকাশ্যে এলে নড়েচড়ে বসে দুদক। সংস্থাটির সচিব সাইদুর রহমান খান জানান, আগের অনাপত্তিপত্রটি ভুল ছিল এবং মামলার তথ্য উল্লেখ করে নতুন করে চিঠি পাঠানো হচ্ছে।
বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, দুদকের অনাপত্তিপত্র পাওয়ার পর নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুল হাসিব তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। তবে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি বা খুদে বার্তার জবাব দেননি। অন্যদিকে, মইদুর রহমান মওদুদের সাথেও যোগাযোগ করা যায়নি।
নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ১১ মার্চ বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় দুদককে চিঠি দিয়ে আমিনুল হাসিব ও মইদুর রহমান মওদুদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা তদন্তাধীন বা বিচারাধীন রয়েছে কি না, সে তথ্য জানতে চেয়েছিল। মামলা থাকা সত্ত্বেও দুদক তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই বলে অনাপত্তিপত্র ইস্যু করে। দুদকের একটি সূত্র বলছে, মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের 'ম্যানেজ' করে দুই প্রকৌশলী এই অনাপত্তিপত্র নিয়েছেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরের উন্নয়নকাজে শত শত কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ দুদকে জমা পড়ে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ৪টি মামলা করে কমিশন। মামলার নথি থেকে জানা যায়, আসামিদের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক উপদেষ্টা তারেক আহমেদ সিদ্দিকসহ অনেকে রয়েছেন।
দুদকের করা দুটি মামলায় তারেক আহমেদ সিদ্দিকের সাথে আমিনুল হাসিব ও মইদুর রহমান মওদুদকেও আসামি করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত বর্তমানে দুদকের মানি লন্ডারিং শাখায় চলছে। সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর ১১ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এজাহারে বলা হয়, আসামিরা প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই ২১২ কোটি টাকার বিল তুলে নিয়ে আত্মগোপন করেছেন।
আরেকটি মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশিদুল হাসান। কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ ও ভবন নির্মাণ প্রকল্প থেকে ১৫০ কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগে এ মামলায় মোট ১২ জনকে আসামি করা হয়। এ বিষয়ে দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায় এড়ানোর চেষ্টা করলেও মহাপরিচালক (মানি লন্ডারিং) মোকাম্মেল হক জানান, অনাপত্তির বিষয়টি তিনি জেনেছেন এবং মামলার তথ্য উল্লেখ করে সংশোধিত চিঠি আবার পাঠানো হচ্ছে। বিষয়টি কীভাবে ঘটেছে, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানান।




