দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় প্রত্যাহারের দাবিতে মশালমিছিল ও নাশকতার চেষ্টার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি জামায়াত-ই-ইসলামীর পাঁচ কর্মীকেও আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রোববার রাতে নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ১১৪ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৭০ থেকে ৮০ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করা হয়েছে। মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন দিনাজপুর-৬ (নবাবগঞ্জ, বিরামপুর, হাকিমপুর ও ঘোড়াঘাট) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নবাবগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি শিবলী সাদিক, সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. জিয়াউর রহমান ওরফে মানিক, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাংগঠনিক সম্পাদক তাজওয়ার মোহাম্মদ ফাহিম ওরফে নাইনটি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সায়েম সবুজ ও সানোয়ার হোসেন মণ্ডল, স্বেচ্ছাসেবক লীগের উপজেলা শাখার আহ্বায়ক আবুল বাসার, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহিনুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শামীম হোসেন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাসেল মিয়া প্রমুখ।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ৯ আগস্ট রাত ৯টার দিকে উপজেলার বিনোদনগর পাহাড়পুর এলাকায় পাঠানগঞ্জ-ডাংশেরহাট পাকা সড়কে সাবেক সংসদ সদস্য শিবলী সাদিকের নির্দেশে অন্য আসামিরা সমবেত হন। পরে তারা সেখানে শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় প্রত্যাহারের দাবিতে পশুকুড়াল, লোহার বড, সামুরাই, হকিস্টিক, বাঁশের লাঠিসহ মশালমিছিল করার প্রস্তুতি নেন। পুলিশ বিষয়টি জানতে পেরে রাত সোয়া ১০টার দিকে সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে দুইজনকে আটক করা হয়।
এদিকে, মামলায় জামায়াতের কর্মীদের নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দলটি। জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও দিনাজপুর জেলা শাখার সাবেক আমির আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, মামলার এজাহারে থাকা ২১ নম্বর আসামি পুঁটিমারা গ্রামের হারুন অর রশিদ, তার ছেলে ২২ নম্বর আসামি মো. রোকনুজ্জামান, জামাতা ৯৩ নম্বর আসামি মোস্তফা কামাল নওশাদ এবং ভাদুরিয়া গ্রামের ২৫ নম্বর আসামি আবদুস সাত্তার ও ২৬ নম্বর আসামি রফিকুল ইসলাম — এই পাঁচজন জামায়াতের সক্রিয় কর্মী। তিনি অভিযোগ করেন, ভবিষ্যতে জামায়াতের মিছিল-সমাবেশে যেতে কর্মীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করার জন্য একটি রাজনৈতিক দলের উসকানিতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ঘটনার সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রাজ ইসলাম (২২) ও মাসুদ রানা (২১) নামের দুইজনকে আটক করে। নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল কুদ্দুস জানান, আটক দুইজনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার দুপুরে দিনাজপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।




