গোপালগঞ্জ শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহের চরম সংকটে গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দিনের বিভিন্ন সময়ে এবং রাতেও ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এমনকি কোনো কোনো এলাকায় মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে বারবার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো)। এই পরিস্থিতিতে ক্রুদ্ধ জনতারা প্রতিষ্ঠানটির দপ্তর ও বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই নিজেদের স্থাপনা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।
ওজোপাডিকোর গোপালগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মাঈন উদ্দিনের স্বাক্ষরিত চিঠিতে দপ্তর ও অন্যান্য স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার এবং নিয়মিত পুলিশি টহলের ব্যবস্থা রাখার বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গোপালগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় মূলত তিনটি স্থান থেকে—ওজোপাডিকোর পাওয়ার হাউস, গোপালগঞ্জ দপ্তর ক্যাম্পাস এবং চরপাথালিয়ায় অবস্থিত দুটি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র। তবে জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে এই এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ বাড়ছে। এর ফলে অসন্তুষ্ট কোনো ব্যক্তি বা জনতা ওজোপাডিকোর দপ্তর, বৈদ্যুতিক স্থাপনা অথবা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অপ্রীতিকর আচরণ করতে পারেন। এমনকি যেকোনো ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা বা নাশকতার আশঙ্কাও থেকে যাচ্ছে। তাই প্রতিষ্ঠানের সব স্থাপনা ও উপকেন্দ্রগুলোকে নিয়মিত পুলিশি টহলের আওতায় আনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর কড়া নজরদারি রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নির্বাহী প্রকৌশলী মাঈন উদ্দিন বলেন, দিনের বেলায় শহরের বিদ্যুতের চাহিদা থাকে ১২ থেকে ১৪ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যায় প্রায় ৯ মেগাওয়াট। অন্যদিকে রাতে চাহিদা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৮ মেগাওয়াটে, তখন সরবরাহ মেলে মাত্র ১২ থেকে ১৪ মেগাওয়াট। তিনি আরও জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান পরীক্ষা এবং হাসপাতালের রোগীদের কথা বিবেচনা করে সেখানে যতটা সম্ভব নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা চলছে। তাই ঘাটতি মেটাতে বাধ্য হয়ে কিছু কিছু এলাকায় এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ওজোপাডিকো নিজে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না। জাতীয় গ্রিড থেকে যতটুকু বিদ্যুৎ বরাদ্দ মেলে তা কেবল বিতরণই করা হয়। গ্রাহকদের ক্ষোভের কারণে অফিস ও উপকেন্দ্রে হামলার আশঙ্কায় পুলিশ সুপারের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অতীতেও জাতীয় গ্রিডের রক্ষণাবেক্ষণের সময় দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছিল। তখন মাইকিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকদের আগাম জানানো এবং প্রশাসনকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়েও প্রশাসনকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জের জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ বলেন, চিঠিটি এখনও তার হাতে পৌঁছায়নি। চিঠি পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হবে।




