সাদাপোশাকে তুলে নেওয়া রাঙামাটি সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও ডিবিসি টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি সৈকত রঞ্জন চৌধুরীর জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার পক্ষে জামিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তার আইনজীবী নজরুল ইসলাম জানান, সৈকত রঞ্জনকে আদালতে হাজির করা হয়নি। বেলা ১২টার দিকে শুনানি শুরু হলেও বিচারক জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেননি। ফলে আগামী মঙ্গলবার আবারও শুনানি হবে, সেদিন সৈকত রঞ্জনকে আদালতে উপস্থিত করে জামিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেল সোয়া ২টার দিকে রাঙামাটি জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে থেকে তাকে সাদাপোশাকধারী গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার সময় তার সঙ্গে থাকা রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আকবরকেও একই সময়ে আটক করা হয়। সূত্র জানিয়েছে, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক চন্দ্রা চাকমা শাহবাগ থানায় আলী আকবরের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেন। সেই মামলার ভিত্তিতে ডিবি অভিযান চালায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিক সৈকত রঞ্জনকে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে আটক করা হয় বলে স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে।
ঘটনার পরদিন দুজনকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং বর্তমানে তারা কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। ঘটনাস্থলের একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, চার ব্যক্তি জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে সৈকত রঞ্জনকে ঘিরে ধরেন। রাস্তার পাশে একটি মাইক্রোবাস দাঁড়িয়ে ছিল, গাড়িটি চালু অবস্থায় ছিল এবং নির্দেশক বাতি জ্বলছিল। কিছুক্ষণ কথা বলার পর তাকে ওই গাড়িতে তোলা হয় এবং গাড়িটি স্টেডিয়ামের দিকে চলে যায়।
রাঙামাটি সাংবাদিক ইউনিয়নের এক সদস্য জানান, মঙ্গলবার দুপুরে একসঙ্গে খাবার খাওয়ার কথা ছিল তাদের। কিন্তু সৈকত রঞ্জন জেলা পরিষদ কার্যালয়ে কাজ আছে বলে সেখানে যান। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও তিনি না ফেরায় সহকর্মীরা সেখানে গিয়ে দেখেন তার মোটরসাইকেল পড়ে আছে, কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন সাদাপোশাকধারী কয়েকজন তাকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে গেছে।
এদিকে সৈকত রঞ্জনের মুক্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হক, সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াস এবং রাঙামাটি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সুশীল প্রসাদ চাকমা। তারা সাদাপোশাকধারীদের এমন কর্মকাণ্ডের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।




