জাপানের হোন্ডা মোটর কোম্পানি ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ স্টিল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশনের (বিএসইসি) যৌথ উদ্যোগ বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেড (বিএইচএল) তাদের বৈশ্বিক ব্যবসার বিস্তৃতি ঘটাতে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি এবার দেশে তৈরি ‘হোন্ডা এনএক্স২০০’ মডেলের মোটরসাইকেল সরাসরি উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোতে রপ্তানি করবে।

বৃহস্পতিবার মুন্সিগঞ্জের আবদুল মোনেম ইকোনমিক জোনে অবস্থিত হোন্ডার মোটরসাইকেল উৎপাদন কারখানায় এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ রপ্তানি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। এ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) মো. শাকিরুল ইসলাম খান, গজারিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফসা নাদিয়া এবং বিএএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুসুমু মরিসাওয়া সহ সংস্থাটির প্রধান বিপণন কর্মকর্তা শাহ মুহাম্মদ আশেকুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খান মন্তব্য করেন, একটি টেকসই ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে বিনিয়োগ, উৎপাদন ও রপ্তানিকে উৎসাহিত করছে সরকার। এই রপ্তানি একাধারে পণ্যের বহুমুখীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতি আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি হোন্ডার রপ্তানি গন্তব্যসমূহ আরও প্রসারিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী সুসুমু মরিসাওয়া এই উদ্যোগকে উৎপাদন দক্ষতা ও গুণগত মান নিশ্চিতের ফসল হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, “মেক্সিকোতে রপ্তানি শুরুর মাধ্যমে আমাদের আন্তর্জাতিক বাজারের পরিধি আরও বাড়ল।” এর আগে গুয়াতেমালায় সফলভাবে রপ্তানি সম্পন্নের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি মন্তব্য করেন যে, এই অগ্রযাত্রা রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সহায়তা এবং দেশটির উন্নয়নে অবদান রাখার হোন্ডার অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করেছে।

প্রধান বিপণন কর্মকর্তা শাহ মুহাম্মদ আশেকুর রহমান এ সাফল্যকে দেশের ক্রমবর্ধমান উৎপাদন সক্ষমতা ও বৈশ্বিক উৎকর্ষের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন। তার ভাষায়, অভ্যন্তরীণ বাজারই প্রধান অগ্রাধিকার হলেও এই মাইলফলক রপ্তানির বহুমুখীকরণ, স্থানীয় শিল্পায়ন, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে একটি নির্ভরযোগ্য মোটরসাইকেল উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে এগিয়ে নিচ্ছে।

এই কৃতিত্ব অর্জনে বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ডিউটি এক্সেম্পশন অ্যান্ড ড্রব্যাক অফিস, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), শুল্ক বিভাগ, ব্যাংকিং ও সরবরাহকারী অংশীজন এবং ডিলারদের ভূমিকাকে স্বীকৃতি জানিয়েছে কোম্পানিটি। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে মধ্য আমেরিকার দেশ গুয়েমালায় ‘হোন্ডা এক্স ব্লেড’ মডেল রপ্তানির মধ্য দিয়েই বিএএল তাদের আন্তর্জাতিক পথচলা শুরু করেছিল। মেক্সিকোতে হোন্ডা এনএক্স২০০ এর চালান তাই তাদের রপ্তানি বাজেটের দ্বিতীয় অধ্যায়।