নিউ ইয়র্ক সিটির কনজেশন প্রাইসিং কর্মসূচি শুরুর পর থেকে বিতর্কের প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল টোলের অর্থনৈতিক প্রভাব। তবে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র এই কর্মসূচির অপ্রত্যাশিত এক সুবিধা সামনে এনেছে—জরুরি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার সময় উল্লেখযোগ্য হ্রাস। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যাড হামফ্রিজসহ ছয় অর্থনীতিবিদের এই গবেষণায় নিউ ইয়র্ক সিটির প্রায় ১.৬ মিলিয়ন ইএমএস ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। মূল ফলাফলের জন্য ম্যানহাটনের একটি নমুনা ব্যবহার করে দেখা গেছে, ৫ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে টোল কার্যকর হওয়ার পর কনজেশন রিলিফ জোনের ভেতরে ইএমটি ভ্রমণের মোট সময় ৬৩ থেকে ৭০ সেকেন্ড, অর্থাৎ প্রায় ৫ থেকে ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
গবেষকরা ৬০তম স্ট্রিটের দুই পাশের অ্যাম্বুলেন্স রানের পার্থক্য তুলনা করে এই ফলাফলে পৌঁছেছেন। হামফ্রিজ ফরচুনকে বলেন, তাঁদের গবেষণা নকশা ছিল মূলত স্থানিক। ৬০তম স্ট্রিটের ওপারে এবং নিচের দিকে, জোনের ভেতরে ও বাইরে ইএমটি ট্রিপের তুলনা করা হয়, কারণ জরুরি কলের অন্যান্য বৈশিষ্ট্যে এগুলো খুবই একই রকম হওয়ার কথা।
এক মিনিট কেন গুরুত্বপূর্ণ তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হামফ্রিজ উল্লেখ করেন, অর্থনৈতিক গবেষণায় দেখা গেছে জরুরি চিকিৎসা সেবার সময় মাত্র এক মিনিট কমালেও গুরুতর রোগীর জন্য তা বিপুল অর্থনৈতিক সুবিধা বয়ে আনে, কারণ এটি জীবন-মৃত্যুর বিষয়। স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের রোগীর ক্ষেত্রে এই সময় সাশ্রয়ের মূল্য অপরিসীম। তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সময় কমেছে মাত্র ৭ থেকে ৯ সেকেন্ড। বড় ধরনের সময় সাশ্রয়—৫৪ থেকে ৫৯ সেকেন্ড—অর্জিত হয়েছে প্যারামেডিকদের রোগী স্থিতিশীল করার পর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময়ে।
সংশয়বাদীদের একটি প্রচলিত যুক্তি ছিল, কনজেশন প্রাইসিং গাড়ি চালানো কমায় না, বরং তা কেবল অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত করে। হামফ্রিজ জানান, তাঁরা কোনো স্থানান্তর প্রভাব খুঁজে পাননি। ৬০তম স্ট্রিটের উত্তরে বা অন্য কোথাও ইএমটি কল ধীরগতির হয়েছে বলে প্রমাণ মেলেনি। মানুষ মূলত গাড়ি চালানো বন্ধ করে দিয়েছে। রাস্তার ক্যামেরার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সীমানা এলাকায় পথচারীর সংখ্যা প্রায় ১৪ শতাংশ এবং সাইকেল আরোহীর সংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে যাত্রীবাহী গাড়ি ২১ শতাংশ এবং ট্রাক ১৮ শতাংশ কমেছে। মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটির বিস্তৃত তথ্যও এই চিত্রকে সমর্থন করে।
পাশাপাশি গবেষণাপত্রটি লন্ডন, স্টকহোম ও মিলানে কনজেশন প্রাইসিংয়ের কারণে দুর্ঘটনা হ্রাসের পূর্ববর্তী তথ্যও উল্লেখ করেছে। বাইকের ব্যবহার বৃদ্ধিকে একটি ইতিবাচক বাহ্যিক প্রভাব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। হামফ্রিজের মতে কনজেশন জোনে সাইকেল চালানো নিরাপদ হওয়ায় মানুষ বেশি বাইক ব্যবহার করছে। পায়ে চলাচল বেড়ে যাওয়ায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে, যা ভবিষ্যতের গবেষণার বিষয়। নগর ও রাজ্যের নিজস্ব অর্থনৈতিক তথ্যও একই ইঙ্গিত দেয়—টোল চালুর এক বছর পূর্তিতে গভর্নরের অফিস জানায়, ২০২৪ সালের তুলনায় পায়ে চলাচল বেড়েছে এবং বিক্রয় কর আদায় ৬ শতাংশ বেড়েছে।
গবেষণার সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিগত জটিলতা এসেছে টোল নীতি নয়, বরং ২০২৫ সালের মার্চে এফডিএনওয়াই-এর একটি নির্দেশ থেকে, যেখানে অ্যাম্বুলেন্সকে পছন্দের হাসপাতালের পরিবর্তে নিকটস্থ হাসপাতালে রোগী নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। গবেষকরা গুগল নিউজ সার্চ করে এই নীতিটি গুরুত্বপূর্ণ কনফাউন্ডার হিসেবে শনাক্ত করেন। তাঁদের সীমান্ত-ভিত্তিক গবেষণা নকশা এই ধরনের নগরব্যাপী পরিবর্তনের প্রভাব থেকে তুলনামূলকভাবে মুক্ত ছিল। মার্চ ২০২৫-এর পর পরিবহন সময় বেড়ে যাওয়ায় নির্দেশনাটির প্রভাব ধরা পড়ে।
হামফ্রিজের বিস্তৃত যুক্তি হলো, বিতর্ক শুধু টোলের দিকেই নিবদ্ধ থাকে, অথচ ইজেড-পাস স্টেটমেন্টে না আসা খরচ ও সুবিধা—যেমন বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ ও রাস্তার ক্ষয়—উপেক্ষিত হয়। কম যানবাহন মানেই কম বায়ুদূষণ, যার বিশাল স্বাস্থ্যগত প্রভাব রয়েছে। ইপিএ-র বায়ুর মান মূল্যায়নের স্পষ্ট পদ্ধতি রয়েছে। শব্দদূষণ সম্পত্তির মান হ্রাস করে বলে প্রমাণ রয়েছে।
এই গবেষণার পর হামফ্রিজ মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের অন্যান্য শহরে কনজেশন প্রাইসিং নিয়ে আলোচনায় অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি প্রতিক্রিয়ার সময়ের ইতিবাচক প্রভাব অবশ্যই বিবেচনায় নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কেউই এর সম্পূর্ণ খরচ-সুবিধা বিশ্লেষণ করেনি, কিন্তু তাদের ফলাফল ইঙ্গিত দেয় তা করা উচিত। সাধারণ মানুষ কেবল ম্যানহাটনে গাড়ি চালিয়ে টোল দেওয়ার বিষয়টি দেখে, কিন্তু এর মাধ্যমে পাওয়া এত সুবিধা তারা দেখতে পায় না।




