রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহামুদুল হাসান ও উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের (মিলু) মধ্যে হওয়া এক ফোনালাপের অডিও রেকর্ডিং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। গত শুক্রবার রাতে সংঘটিত এই কথোপকথনে নিয়োগ প্রক্রিয়া, গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কির ঘটনা প্রকাশ পায়।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে দুজনেই জানিয়েছেন, ওই রাতে মুঠোফোনে তাদের মধ্যে আলাপ হয়। পরে সেই আলাপের রেকর্ডিং ফাঁস হয়ে যায়। ছাত্রদলের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান দাবি করেন, যারা নিয়োগ পেয়েছেন তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। তার মতে, ছাত্রদলের শতাধিক প্রার্থী আবেদন করলেও কাউকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। তিনি জানান, এই অনিয়মের প্রমাণসহ শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করবেন।

অন্যদিকে ইউএনও মাহামুদুল হাসান কোনো রাজনৈতিক দলের সুপারিশে নিয়োগ দেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেছেন, লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় যারা ভালো ফল করেছে শুধুমাত্র তারাই নির্বাচিত হয়েছে। প্রকাশিত ২ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের অডিওতে মোস্তাফিজুর রহমানকে বলতে শোনা যায়, “আপনি (ইউএনও) এভাবে সরকারের সুনাম নষ্ট করছেন? এই জামায়াত আর আওয়ামী লীগের লোকদের দিয়ে?” এর জবাবে ইউএনও বলেন, তিনি জামায়াত বা আওয়ামী লীগ কাউকে চেনেন না, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্য এবং পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই নিয়োগ সম্পন্ন করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, তথ্য সংগ্রহকারী ১৮৫টি পদের জন্য ২ হাজার ৮২ জন এবং সুপারভাইজার ১৯টি পদের বিপরীতে ৩১৫ জন আবেদন করেছিলেন। গত ৩০ জুলাই যাচাই-বাছাই ও ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং ৭ আগস্ট রাত ৮টার দিকে উত্তীর্ণদের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। অডিওতে ছাত্রদল নেতা অভিযোগ করেন, তার দেওয়া তালিকার কাউকেই নেওয়া হয়নি। জবাবে ইউএনও বলেন, কোনো তালিকা দেখে নিয়োগ হয়নি, ভাইভা বা ব্যবহারিক পরীক্ষায় নম্বর না পেলে কাউকে নেওয়ার সুযোগ নেই।

মোস্তাফিজুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, বিএনপির পাইলট প্রকল্প হিসেবে পরিচালিত এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যারা নিয়োগ পেয়েছে তাদের মধ্যে ২০ শতাংশই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত এবং ৬০ শতাংশ জামায়াত পরিবারের লোক। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত দিনে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করা ৮ থেকে ১২ জনের ছবি ও ভিডিও তারা সংগ্রহ করেছেন। ইউএনও বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে কিছু প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং কারও বিরুদ্ধে নির্ভরযোগ্য অভিযোগ পাওয়া গেলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে অন্যকে নেওয়া হবে।

অডিও ফাঁসের ঘটনায় ইউএনও বলেন, এটি একটি সাধারণ বিষয় — তিনি খেতে বসে ছিলেন, ছাত্রদল নেতা ফোন করলে কথোপকথন হয় এবং অজ্ঞাত কারণে তা রেকর্ড হয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্রদলের সভাপতি জানান, তাদের দলের প্রায় শতাধিক আবেদনকারীর মধ্যে কেউ নির্বাচিত না হওয়ায় প্রকল্পটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইউএনও অবশ্য দৃঢ়ভাবে জানান, তিনি কোনো প্রকার সুপারিশ বা তদবির গ্রহণ করেননি এবং সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে কাজ করেছেন। ছাত্রদলের কেউ না নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আবেদনকারীদের ৩৫-৪০ নম্বর এসেছে, কিন্তু পাস করার জন্য ৭০ নম্বর প্রয়োজন — এ অবস্থায় কীভাবে তাদের নেওয়া সম্ভব?