উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সের পূর্ব উপকণ্ঠে মোহাম্মদিয়া এলাকায় অবস্থিত একটি শিশু সেবা কেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও ১৯ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ত্রুটিপূর্ণ এয়ার কন্ডিশনার ইউনিট থেকে বৈদ্যুতিক স্পার্কের কারণেই এই আগুন লাগে। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে এয়ার কন্ডিশনারটি টানা চলছিল, বৃহস্পতিবার ভোরে আগুন ধরে যায় বলে ফরেনসিক তদন্তকারীরা নিশ্চিত করেছেন।

দমকল বাহিনী অন্তত তিন ঘণ্টা ধরে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। নাগরিক সুরক্ষা বিভাগ নিহত ও আহতদের সঠিক বয়স প্রকাশ করেনি, তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে দেশটির রাষ্ট্রপতি আবদেলমাজিদ তেব্বুনে জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে। সংবাদ সংস্থা এএফপি পুলিশের এক প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, এতিমখানার একজন পরিচর্যাকর্মীও নিহতদের মধ্যে আছেন। আহতদের মধ্যে কেউ কেউ পুড়ে গেছেন, কেউ ধোঁয়া নিঃশ্বাসে নিয়েছেন এবং কারও কারও শক লেগেছে। প্রধানমন্ত্রী সিফি ঘ্রিয়েব দুইটি হাসপাতালে তাদের দেখতে যান।

রাষ্ট্রপতি তেব্বুনে এক বিবৃতিতে বলেন, 'ঈশ্বরের ইচ্ছার কাছে নতি স্বীকার করে মর্মাহত চিত্তে আমি জানতে পেরেছি যে শিশুরা মারা গেছে এবং অনেকে আহত হয়েছে।' নাগরিক সুরক্ষা ইউনিট আগুন লাগার কয়েক ঘণ্টা পর হতাহতের সংখ্যা ঘোষণা করে এবং বলে, 'ঈশ্বর তাদের প্রতি দয়া করুন।' কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমিত গতিশীলতাসম্পন্ন পাঁচজন শিশুকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

এদিকে, এই মর্মান্তিক ঘটনায় দেশজুড়ে শোক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিরোধী দল, সমালোচনামূলক গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা অবহেলার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিরোধী দল জিল জাদিদ ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত ও কোনো অবহেলা বা নিরাপত্তা ব্যর্থতার জন্য আইনি জবাবদিহিতার দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে এতিমখানা, পরিচর্যা কেন্দ্র, হাসপাতাল ও স্কুলগুলোতে অগ্নি নিরাপত্তা মান যাচাইয়ের জন্য দেশব্যাপী পর্যালোচনারও দাবি জানানো হয়েছে।

সাংবাদিক আকরাম খারিফ এই ঘটনাকে 'জাতীয় ট্র্যাজেডি' বলে অভিহিত করে সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে অগ্নি নিরাপত্তা নিরীক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন এবং প্রশ্ন তুলেছেন কেন আলজেরীয়রা 'একটি স্বাভাবিক দেশে স্বাভাবিক জীবন' যাপন করতে পারে না। একাধিক গণমাধ্যমের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পাতায় মন্তব্যকারীরা জানতে চেয়েছেন রাতে কারা শিশুদের তত্ত্বাবধানে ছিলেন, কেউ কেউ পদত্যাগেরও দাবি জানিয়েছেন। সরকারবিরোধী ওয়েবসাইট ল্য মাতাঁ দালজেরি প্রাথমিক উদ্ধার অভিযানের সময় মেয়র ও প্রাদেশিক গভর্নরের অনুপস্থিতির দিকটি তুলে ধরেছে। অন্যদিকে, সরকারপন্থী সংবাদ সাইট আলজেরি প্যাট্রিওটিক বলেছে, 'কোনো আপস না করে' সত্য উদঘাটন করা উচিত এবং মৃত্যুগুলো প্রতিরোধযোগ্য ছিল কিনা তা নির্ধারণ করা উচিত।

উল্লেখ্য, আলজেরিয়া এই সময় তীব্র গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং দেশটির উত্তরে একাধিক দাবানল মোকাবিলায় দমকল বাহিনী কাজ করছে।