মার্কিন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান জেসিপেনি তাদের নতুন প্রচারণা ‘রিটেইল রিজুভেনেশন’-এর ঘোষণা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই ধুঁকতে থাকা এই মধ্য-মূল্যের খুচরা বিক্রেতাটি অফ-প্রাইস শপিংয়ের যে বিশৃঙ্খলা বা আপসের প্রয়োজন, তা এড়িয়ে ক্রেতাদের জন্য একটি স্বতন্ত্র অভিজ্ঞতা তৈরি করতে চায়। তাদের লক্ষ্য, দর কষাকষির সেই অস্থিরতার বদলে একটি ভিন্ন ও আরামদায়ক কেনাকাটার পরিবেশ উপস্থাপন করা।
এই নতুন ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে ছয়জন প্রকৃত ক্রেতাকে দেখা যাবে। নিউ এজ থেরাপির ভাষা ব্যবহার করে একটি ব্যঙ্গাত্মক ধাঁচে রিটেইল ওয়েলনেস দেখানো হয়েছে এই ভিডিওতে। রসিকতার মাধ্যমে কেনাকাটার দুশ্চিন্তাকে ভাগ করে নেওয়ার আবেগে রূপান্তরের চেষ্টা করা হয়েছে। ভিডিওতে এক নেত্রী বলছেন, “রান্নাঘরের জিনিসপত্রের বিভাগে পাওয়া ব্রা-র চেয়ে আমি বেশি মূল্যবান।” পরে তিনি প্রশ্ন করেন, “আপনারা কি দাগ পড়া অফ-প্রাইস ফ্রাইং প্যান চাইবেন, নাকি জেসিপেনির স্টুয়ার্ট রান্নার সেট?”
এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি ‘রিটেইল রিগ্রেটস ট্রেড-ইন’ প্রোগ্রাম চালু করেছে। এর মাধ্যমে ক্রেতারা ২৮ থেকে ৩০ আগস্টের মধ্যে তাদের কেনা কোনো অফ-প্রাইস পণ্য জেসিপেনিতে জমা দিলে ৫০ ডলার বা তার বেশি কেনাকাটায় ১৫ ডলার ছাড় পাবেন। এই জমা দেওয়া পণ্যগুলো গুড৩৬০-এর মাধ্যমে প্রয়োজনের মানুষদের কাছে দান করা হবে।
জেসিপেনির ব্র্যান্ড সিইও মিশেল ওয়াজলো জানিয়েছেন, ক্রমবর্ধমান এই খাত থেকে ক্রেতা আকৃষ্ট করার মতো অবস্থানে রয়েছে তাদের প্রতিষ্ঠান, তবে তারা অফ-প্রাইস বিক্রেতাদের সঙ্গে ‘দরে টক্কর’ দিতে চান না। তিনি বলেন, লিজ ক্লেইবোর্ন, ওয়ার্দিংটন, অ্যারোপোস্টেল এবং ফটো স্টুডিও ও সেলুনের মতো সেবাসহ ২৫০টির বেশি বিউটি ব্র্যান্ড (স্ম্যাশবক্স, টুফেসড, ওলাপ্লেক্স) নিয়ে জেসিপেনি বাজারের দীর্ঘদিনের একটি শূন্যস্থান পূরণ করছে।
গত বছর যুক্ত হওয়া নাইকি ব্র্যান্ডটিকে ‘ওয়ান-স্টপ শপ’ হওয়ার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন ওয়াজলো। তিনি বলেন, খনিজ-নিষ্কাশিত হিরার চেয়ে ৬০ থেকে ৮৫ শতাংশ কম দামে ল্যাব-গ্রোন ডায়মন্ড, কিউইজিনার্টের মতো ব্র্যান্ডের ঘরোয়া পণ্যসহ সবকিছু এক ছাদের নিচে পাওয়া যায়। “আমরা বলতে চাই, জেসিপেনির জন্য জায়গা আছে। অনেক জায়গায় আপনি কেনাকাটা করেন, সেটা ভালো, কিন্তু আমরা কী অফার করি, কত ব্র্যান্ড, কত সাইজ, কত মূল্য—সেটা আপনি নাও জানতে পারেন। এটাই মৌলিকভাবে ভিন্ন মূল্য প্রস্তাব, যা দিতে জেসিপেনিই সক্ষম,” যোগ করেন তিনি।
এ বছর শুরুতে ‘ইয়েস, জেসিপেনি’ স্লোগান ও ক্যাম্পেইন চালুর পর থেকে স্টোর ট্রাফিক বছরে ৬ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে ২০২৫ অর্থবছরে জেসিপেনির মোট নিট বিক্রি বছরে ৫ শতাংশের বেশি কমে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। চতুর্থ প্রান্তিকে বিক্রি ৮ শতাংশ কমেছে এবং ক্ষতি আরও বেড়েছে। অন্যদিকে টিজেএক্স, রস এবং বার্লিংটনের মতো অফ-প্রাইস জায়ান্টরা ধারাবাহিকভাবে বিক্রি বাড়ালেও সাম্প্রতিক প্রান্তিকে জেসিপেনির বিক্রি প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে।
ওয়াজলো স্বীকার করেন, বছরের শুরুতে ভালো করলেও দ্বিতীয় প্রান্তিকে গ্যাসের দাম বেড়ে গেলে কিছুটা পিছিয়ে পড়ে তারা। তবে শেষার্ধে বেশ আশাবাদী তিনি। “অনেক দিন পর জেসিপেনিতে এসে অনেকে অবাক হচ্ছেন,” বলেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্লেষকদের কাছে এখনো একটি অনুমাননির্ভর টার্নঅ্যারাউন্ড খাত হিসেবে দেখা হয়। বেশিরভাগ বিশ্লেষকের রেটিং ‘হোল্ড’, কেউ কেউ ‘মডারেট বাই’, আবার কারও কারও মতামত ‘মডারেট সেল’।
এছাড়া জেসিপেনি ১৩০টি স্টোর সংস্কার শেষ করে শিকাগোর বাইরে ছোট আকারের একটি নতুন স্টোর খুলছে। ২০,৫০০ বর্গফুটের এই স্টোরটি ভবিষ্যতে আরও ছোট স্টোর খোলার ক্ষেত্রে একটি মডেল হয়ে উঠতে পারে। ওয়াজলো বলেন, “এটি হবে একটি মিনি স্টোর, ছোট পরিসর সম্পর্কে আমরা আরও জানতে পারব।” ক্রেতাদের কাছাকাছি থাকা এই স্টোর থেকে সংগ্রহ ও ফিক্সচার মেশানোর সেরা উপায় শেখা যাবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিষ্ঠানটি অ্যারোপোস্টেলের সঙ্গে তাদের প্রথম ক্রস-ব্র্যান্ড লয়ালটি প্রোগ্রামও চালু করেছে। ক্যাটালিস্ট ব্র্যান্ডসের মালিকানাধীন দুই প্রতিষ্ঠানের এই উদ্যোগের মাধ্যমে ক্রেতাদের সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ তৈরি হলো। “যে কোনো ব্র্যান্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ ক্রস-শপিং আমরা দেখেছি,” বলেন ওয়াজলো। সম্প্রতি জরিপে ৮৮ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, জেসিপেনিতে কেনাকাটা করা সহজ, ৭৬ শতাংশ যা খুঁজছিলেন তা পেয়েছেন। ৭৭ শতাংশ মনে করেন জেসিপেনিতে গেলে মানসিক শান্তি পাওয়া যায়, আর বাজেট-সচেতন ক্রেতাদের ৮৭ শতাংশই তাদের সফরকে মূল্যবান বলে মত দিয়েছেন।
ক্যাটালিস্ট ব্র্যান্ডসের প্রধান গ্রাহক ও বিপণন কর্মকর্তা মারিসা থালবার্গ বলেন, “প্রায়ই মনে হয় ভালো দাম পেতে হলে কিছু আপস করতে হয়। আমরা খেলার ছলে এই ধারণার বিরুদ্ধে যাচ্ছি। বড় বড় রিটেইলাররা ভালো দামের রোমাঞ্চ দেখিয়ে সন্তুষ্ট করতে পারে, কিন্তু বাস্তবে তা সবসময় সত্য নয়।”




