ডট-কম ধসের পর ২০০১ সালে ডিভিডি ভাড়া পরিষেবা নেটফ্লিক্স যখন টিকে থাকার লড়াইয়ে ব্যস্ত, তখন সংস্থাটিকে তার ইতিহাসে প্রথম বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাই করতে হয়েছিল। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কর্মীকে বিদায় জানানো হয়েছিল সেই সময়। এই অভিজ্ঞতা থেকেই নেটফ্লিক্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা রিড হেস্টিংস একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিয়েছিলেন—একটি কোম্পানি ঘনিষ্ঠ একটি দল হতে পারে, কিন্তু তা পরিবার নয়।
সম্প্রতি সেমাফোরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হেস্টিংস বলেন, “লোকেরা সেরা দলকে সম্মান করে, পরিবারকেও সম্মান করে এবং আমাদের কাজের ধরনকেও সম্মান করে। কিন্তু আপনি যদি কোম্পানিতে নিজেকে পরিবার হিসেবে বর্ণনা করেন, তাহলে কখনোই ছাঁটাই করা উচিত নয়। আপনি কি কখনো আপনার দুই সন্তানকে ছাঁটাই করবেন? ঠিক তেমনই, যদি বলেন পরিবার কিন্তু সেইভাবে কাজ না করেন, তাহলে লোকেরা খুব নেতিবাচক হয়ে যায়।”
সংস্থাটি ডিভিডি প্লেয়ারের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে সাবস্ক্রিপশন-ভিত্তিক ডিভিডি ডেলিভারি পরিষেবায় রূপান্তরিত হয় এবং ২০০২ সালে পাবলিকলি লিস্টেড হয়। তবে হেস্টিংসের মতে, অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা কর্মীদের সুরক্ষিত বোধ করিয়ে দেয়, এমনকি তাদের কর্মক্ষমতা খারাপ হলেও। ৬৫ বছর বয়সী এই উদ্যোক্তা বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম, বাহ, হয়তো আমাদের প্রতিবছর এক-তৃতীয়াংশ ছাঁটাই করা উচিত। অবশ্যই সেটা অবাস্তব—কিন্তু আমরা বলেছিলাম, বারটি উঁচু রাখি এবং নিজেদের পরিবার হিসেবে না ভেবে চ্যাম্পিয়নশিপ স্পোর্টস টিম হিসেবে ভাবি।”
প্রায় ৪.৪ বিলিয়ন ডলারের মোট সম্পদের মালিক হেস্টিংস ১৯৯৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নেটফ্লিক্সের প্রধান নির্বাহী ছিলেন। এরপর তিনি চেয়ারম্যান হন এবং চলতি বছরের শুরুতে সেই পদ থেকেও সরে দাঁড়ান।
নেটফ্লিক্সের ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে ছাঁটাই হয়েছে, তবে হেস্টিংসের মতে, লক্ষ্য কেবল খরচ কমানো বা কর্মী সংখ্যা কমানো ছিল না। আসল উদ্দেশ্য ছিল প্রতিযোগিতার জন্য সঠিক দল গড়া—এবং দল সঠিক না হলে পরিবর্তন আনা। তিনি বলেন, “যদি বলেন এটি একটি চ্যাম্পিয়নশিপ স্পোর্টস টিম এবং আমাদের অনেক প্রতিযোগী আছে, আমরা চ্যাম্পিয়নশিপ জিততে চাই, তাহলে লোকেরা বুঝতে পারে কেন কোচ সারা বছর ধরে পরিবর্তন আনেন।”
বর্তমানে নেটফ্লিক্স সাফল্য মাপে কর্মক্ষমতার ভিত্তিতে, জ্যেষ্ঠতা, দীর্ঘ চাকরি বা আনুগত্য নয়। কোম্পানির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ম্যানেজারদের নিয়মিতভাবে তথাকথিত “কিপার টেস্ট” প্রয়োগ করতে বলা হয়। সাইটে বলা হয়েছে, “আমরা নেতাদের কাছ থেকে প্রতিভা বিকাশের প্রত্যাশা করি। প্রতিটি পজিশনে সঠিক খেলোয়াড় আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে, আমরা তাদের ‘কিপার টেস্ট’ প্রয়োগ করতে বলি—‘যদি এক্স চলে যেতে চায়, আমি কি তাকে থাকার জন্য লড়াই করব?’ অথবা ‘আজ আমি যা জানি তা জেনে, আমি কি এক্সকে আবার নিয়োগ দেব?’ যদি উত্তর না হয়, তাহলে আমরা বিশ্বাস করি দ্রুত বিদায় নেওয়াই সবার জন্য সবচেয়ে ন্যায্য।”
কর্মীদের প্রতি উচ্চ প্রত্যাশার পাশাপাশি নেটফ্লিক্স নমনীয়তা দেয়। বেতনভোগী কর্মীদের ঐতিহ্যবাহী ৯-৫ কর্মঘণ্টা বা নির্দিষ্ট ছুটির ক্যালেন্ডার মানতে হয় না। কোম্পানি সীমাহীন বেতনভুক্ত ছুটি এবং অভিভাবকীয় ছুটিও দেয়। ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, “আপনার অবস্থান ও ভূমিকার ওপর নির্ভর করে ছুটির ধরন ভিন্ন হতে পারে, তবে আমরা বিশ্বাস করি প্রয়োজন মতো সময় নেওয়া উচিত, যাতে কাজে সেরাটা দিতে পারেন।”
‘কোম্পানি পরিবার’ ধারণা নিয়ে হেস্টিংস একা নন। এয়ারবিএনবি-র প্রধান নির্বাহী ব্রায়ান চেস্কি মহামারির সময় এই শিক্ষা নিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন। ২০২৪ সালে রিথিংকিং পডকাস্টে তিনি বলেন, “আমি সেই চিঠিটি খুব দ্রুত লিখেছিলাম, তাই যা অনুভব করেছি তা-ই লিখেছি। এটা সত্য যে কোম্পানি পরিবার নয়। আমরা আগে নিজেদের পরিবার বলতাম, কিন্তু তারপর আমাদের লোক ছাঁটাই করতে হয়েছে, আর পরিবারের সদস্যদের ছাঁটাই করা যায় না।”
শপিফাইয়ের প্রধান নির্বাহী টোবি লুটকেও একই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। ২০২১ সালে তিনি ম্যানেজারদের সতর্ক করে বলেছিলেন, ই-কমার্স কোম্পানিকে পরিবার বললে কর্মীদের জবাবদিহি করা কঠিন হয়ে পড়ে। “ধারণাটি অদ্ভুত। আপনি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। আপনি কখনো এটি বেছে নেন না, এবং তারা আপনাকে পরিবার থেকে বের করে দিতে পারে না,” তিনি বলেন। লুটকে বিশেষ করে তরুণ কর্মীদের ‘শপিফাম’ শব্দটি ব্যবহারের বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি যোগ করেন, “‘ফ্যামিলি থিংকিং’-এর বিপদ হল দুর্বল কর্মীদের বিদায় করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। শপিফাই একটি দল, পরিবার নয়।”




