প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠান বেটার হোম অ্যান্ড ফাইন্যান্স তাদের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বিশাল গার্গের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, তিনি ফেডারেল সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্তত ৩০ দিনের জন্য যাতে গার্গ শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে সমর্থন আদায় করতে না পারেন, সেজন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে গার্গ যদি কোনো অনুমোদন বা সমর্থন পেয়ে থাকেন, সেগুলোও বাতিলের আবেদন করেছে কোম্পানিটি।
এদিকে, সিইও পদ থেকে অপসারণের পর নেতৃত্বে ফেরার চেষ্টা চালাচ্ছেন গার্গ। বিনিয়োগকারীদের সমর্থন নিয়ে তিনি আবারও কোম্পানির দায়িত্ব নিতে চান। তাঁর এই প্রচারণার প্রেক্ষিতেই নতুন করে আইনি লড়াইয়ে নামল বেটার হোম। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে তাদের মোট নিট লোকসান ১৫০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। একই সময়ে, গার্গের মেয়াদে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৯০ শতাংশের বেশি কমে গেছে।
গার্গের অভিযোগের পাল্টা যুক্তি হলো, তিনি নিজে এবং কয়েকজন প্রাথমিক বিনিয়োগকারী বিশেষ ভোটাধিকারসম্পন্ন ক্লাস বি শেয়ারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সমর্থন পেয়েছেন। তিনি আইনজীবী অ্যালেক্স স্পিরোকে নিয়োগ করেছেন। ১৩ আগস্ট তিনি পরিচালনা পর্ষদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে তাঁকে আবার সিইও করার দাবি জানিয়েছেন। কোম্পানি লাভজনক না হওয়া পর্যন্ত বছরে মাত্র ১ ডলার বেতনে কাজ করার প্রস্তুতিও দিয়েছেন তিনি। কোম্পানি স্থিতিশীল হয়ে গেলে সিইও পদ ছেড়ে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
গত ৩ আগস্ট বেটার হোমের পরিচালনা পর্ষদ গার্গকে সিইও পদ থেকে সরিয়ে দেয়। তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয় ড্যানিয়েল লুইসকে। কোম্পানির সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে এভাবে শেয়ারহোল্ডারদের সমর্থন সংগ্রহের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
পুরোনো বিতর্কও পিছু ছাড়ছে না। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে জুম ভিডিও কলে প্রায় ৯০০ কর্মীকে মাত্র ৭৯ সেকেন্ডে ছাঁটাই করার ঘটনা তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল। এই ঘটনায় তাঁর নেতৃত্ব ও কর্মী ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে তিনি ছুটিতে যান। একটি হুইসেলব্লোয়ার মামলাও বাদ পড়ে এবং তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ২০২৩ সালের এসপিএসি একীভূতকরণের পর বেটারের শেয়ারদর প্রায় ৯৩ শতাংশ পড়ে যায়।
গার্গ স্বীকার করেছেন, ওই ছাঁটাই তাঁর এবং কোম্পানির সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তবে তাঁর দাবি, কোম্পানির ওপর তিনি যথেষ্ট চাপ দিচ্ছেন না। লুইস তাঁকে এমনটাই বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি।




