ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা রোববার রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা (বাংলাদেশ সময় সাড়ে ১০টা) থেকে শুরু হওয়া এ জানাজায় লাখো মানুষ অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় অংশ নেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, দেশটির অন্যতম জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার জানাজায় ইমামতি করেছেন। একইসঙ্গে তিনি খামেনির পরিবারের আরও চার সদস্যের জানাজাও পরিচালনা করেন। জানাজায় ইরানের প্রেসিডেন্ট, পার্লামেন্টের স্পিকারসহ সরকারের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তেহরানের রাস্তায় লাখো শোকার্ত মানুষের ঢল নামে, যারা প্রয়াত নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হন। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তার মৃত্যু দেশটির রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। এই জানাজা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ইরানের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।

এদিকে জানাজায় অংশ নেওয়া বিশ্বের ৭০টির বেশি দেশের প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘আমাদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি সম্মান জানাতে ৭০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি এসেছেন। এর মধ্যে আমাদের বিশ্বস্ত আরব ভাইয়েরাও রয়েছেন। তাঁদের এ উপস্থিতি ইরানকে আনন্দিত করেছে।’ আরাগচি আরও বলেন, ‘এ ঐতিহাসিক স্মৃতি আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কের পথচলায় আজীবন অম্লান থাকবে।’ জানাজায় খামেনির তিন ছেলে, প্রেসিডেন্ট ও স্পিকারসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জানাজায় একটি ১৪ মাসের নাতনির ছোট কফিনও খামেনির কফিনের পাশে রাখা হয়েছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের স্লোগান দেওয়া হয়।