ওয়াশিংটনে স্থানীয় সময় শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ‘যা–ই ঘটুক’ দেশের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে তাঁর পূর্বনির্ধারিত ভাষণ তিনি দেবেনই। চরম প্রতিকূল আবহাওয়া ও সম্ভাব্য বজ্রঝড়ের আশঙ্কা সত্ত্বেও তিনি অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে অনড় অবস্থান নিয়েছেন।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনুষ্ঠানস্থল ন্যাশনাল মল থেকে এরই মধ্যে হাজারো মানুষকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা এবং আয়োজক সংস্থা ‘ফ্রিডম ২৫০ অর্গানাইজেশন’ জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে রাত ১১টার দিকে (বাংলাদেশ সময় রোববার সকালে) প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর বহুল আলোচিত ভাষণটি প্রদান করবেন। ভাষণের পর রয়েছে আতশবাজির আয়োজন।

ট্রাম্পের ভাষণকে কেন্দ্র করে প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করেই ন্যাশনাল মলে তাঁর হাজারো সমর্থক জড়ো হয়েছিলেন। কিন্তু পূর্বনির্ধারিত ভাষণ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে সম্ভাব্য বজ্রঝড়ের পূর্বাভাসে সেখান থেকে সমর্থকদের সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এই আকস্মিক নির্দেশের ফলে অনুষ্ঠানস্থলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। কেউ কেউ দ্রুত বের হওয়ার পথের দিকে ছুটে যান, আবার অনেকে স্থান ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। কিছু সমর্থক ভেতরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন এবং ‘ট্রাম্প’, ‘ট্রাম্প’ স্লোগান দিতে থাকেন। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। পুলিশ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আলো ফেলে সবাইকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং একটি নিরাপত্তাযান উপস্থিত জনতাকে বের হওয়ার পথের দিকে ঠেলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা ঘোষণার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কয়েক ঘণ্টার সামরিক বিমান মহড়া এবং নির্বাচনী প্রচারের আদলে একটি ব্যতিক্রমধর্মী রাজনৈতিক সমাবেশের আয়োজন করেছেন ট্রাম্প। অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে রয়েছে প্রায় ৪০ মিনিটের আতশবাজি প্রদর্শনীর পরিকল্পনা। আয়োজকরা একে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আয়োজন হিসেবে প্রচার করছেন।

দিনের শুরুর দিকে ট্রাম্প তাঁর মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি বার্তা পোস্ট করে লেখেন, ‘প্রচণ্ড গরম থাকা সত্ত্বেও—যদিও পূর্বাভাসের মতো এতটা খারাপ নয়; ওয়াশিংটনে মানুষের উপস্থিতি অবিশ্বাস্য!’ শনিবার ওয়াশিংটনে তাপমাত্রা ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছিল।

অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা ৬২ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা র্যান্ডি কোল তীব্র গরমকে তুচ্ছ করে বলেন, ‘সামান্য গরম সহ্য করাটা তেমন কিছুই না। আমাদের এই অসাধারণ দেশের স্বাধীনতার জন্য অসংখ্য মানুষ যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, সেটার তুলনায় এটা খুবই নগণ্য।’ প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা প্রসঙ্গে ৮০ বছর বয়সী ট্রাম্প নিজেও মন্তব্য করেন যে, এই গরম তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমি খুব দীর্ঘ একটি বক্তৃতা দেব—শুধু এটা দেখানোর জন্য যে, আমি সবকিছুই করতে পারি।’ এর আগে গত শুক্রবার ট্রাম্প দক্ষিণ ডাকোটার ঐতিহাসিক মাউন্ট রাশমোর স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন করেন এবং সেখানে পূর্বসুরি জর্জ ওয়াশিংটন, টমাস জেফারসন, আব্রাহাম লিংকন ও থিওডোর রুজভেল্টের পাথুরে ভাস্কর্যের সামনে দাঁড়িয়ে একটি ভাষণ দেন।