প্রায় ৮০ বছর আগে লেখা হিরোশিমার পারমাণবিক বোমা হামলার এক প্রত্যক্ষদর্শীর স্মৃতিকথা দীর্ঘদিন ধরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আর্কাইভে সেটি আবিষ্কৃত হয়েছে। এবার প্রথমবারের মতো বই আকারে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে সেই মূল্যবান দলিল। শুধু তা-ই নয়, স্মৃতিকথাটি অবলম্বনে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রও নির্মিত হবে। ‘হিরোশিমা, ৮:১৫’ শিরোনামের এই স্মৃতিকথার লেখক কিয়োশি তানিমোতো। তিনি ১৯৪৭ সালে ২৩০ পৃষ্ঠার বইটি লিখেছিলেন, যাতে ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট হিরোশিমায় যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বোমার ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের বর্ণনা রয়েছে।
কিয়োশি তানিমোতো হিরোশিমার একজন মেথডিস্ট ধর্মযাজক ছিলেন। ভাগ্যক্রমে তিনি সেদিন শহরের বাইরে একটি আলমারি পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন, তাই বিস্ফোরণের মুহূর্তে প্রাণে বেঁচে যান। ফিরে এসে তিনি দেখেন চারদিকে শুধু আগুন, ধ্বংসস্তূপ, পোড়া মানুষের দেহ ও আর্তনাদ। প্রথমে তিনি এসব নিয়ে কিছু লিখতে পারেননি, পরে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন এই ভয়াবহতা না ভোলে সে জন্য স্মৃতিকথাটি লেখার সিদ্ধান্ত নেন।
দীর্ঘদিন ধরে স্মৃতিকথাটি যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের বেইনেকে রেয়ার বুক অ্যান্ড ম্যানুস্ক্রিপ্ট লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত ছিল, কিন্তু প্রায় সবার কাছে অজানা ছিল। সম্প্রতি গবেষণার সময় এটি পুনরায় আবিষ্কৃত হয়। স্মৃতিকথাটি পাওয়া গেছে পুলিৎজারজয়ী মার্কিন সাংবাদিক জন হার্সির ব্যক্তিগত নথিপত্রের মধ্যে। বোমা হামলার আট মাস পর তিনি হিরোশিমায় গিয়ে কিয়োশি তানিমোতোর সঙ্গে পরিচিত হন এবং সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ১৯৪৬ সালে তার বিখ্যাত বই ‘হিরোশিমা’ লেখেন।
লেখকের মেয়ে কোকো তানিমোতো কন্দো বইটির ভূমিকায় লিখেছেন, বিস্ফোরণের মুহূর্তে হিরোশিমার কেন্দ্রস্থলের প্রায় সবকিছু মাটির সঙ্গে মিশে যায়। ভূমির কাছাকাছি তাপমাত্রা পৌঁছেছিল প্রায় ৪ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যাতে কাঠ, ইট, কংক্রিট ও মানুষের শরীর পুড়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, মানুষের বেঁচে থাকার আশা টিকে থাকে স্মৃতির মধ্যেই, তাই এই ইতিহাস মনে রাখা আমাদের দায়িত্ব।
আগামী ৬ আগস্ট, হিরোশিমা বোমা হামলার বার্ষিকীতে বইটি প্রকাশ করবে র্যান্ডম হাউস। বিশ্বের অন্যান্য দেশে এটি প্রকাশ করবে পেঙ্গুইন। ইতিমধ্যে বহু দেশের প্রকাশনা সংস্থা বইটির প্রকাশস্বত্ব কিনে নিয়েছে। চলচ্চিত্রটির নামও রাখা হয়েছে ‘হিরোশিমা, ৮:১৫’, যা সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে বোমা বিস্ফোরণের সময়কে নির্দেশ করে।



