প্রায় দশ মাস আগে একটি জামদানি শাড়ি নিয়ে অভিনেত্রী ও মডেল তানজিন তিশার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ওঠে। একটি আইনি নোটিশের মাধ্যমে বিষয়টি প্রথম আলোচনায় এলেও পরে তা আপাতত চাপা পড়ে যায়। সম্প্রতি আদালত সমন জারি করায় পুরোনো সেই বিতর্ক আবার নতুন করে সামনে এসেছে।
সমন জারির খবর পেয়ে তিশা, তাঁর পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। তাঁদের মতে, একটি উপহার দেওয়া শাড়ি নিয়ে এত দূর গড়াবে—এমনটি কেউ ভাবতে পারেননি। ঘনিষ্ঠজনের কেউ কেউ মনে করছেন, এটি ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্বের ফল। একজন তারকার কাছে উপহার হিসেবে দেওয়া একটি শাড়ি কেন্দ্র করে মামলা পর্যন্ত গড়ানো অনাকাঙ্ক্ষিত বলেও তাঁরা মন্তব্য করছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, উপহার দেওয়ার পেছনে যদি কোনো প্রচারণার প্রত্যাশা থেকেও থাকে, তবে তা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা যেত। তাঁদের আশঙ্কা, এমন ঘটনার ফলে ভবিষ্বতে অনেক তারকাই উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে উপহার গ্রহণে অনাগ্রহী হয়ে উঠতে পারেন। পাশাপাশি বিষয়টি একজন শিল্পীর জন্য সম্মানহানিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে বলেও মনে করছেন তাঁরা।
গত সপ্তাহে সমন জারির পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এলে তিশা আইনগতভাবে মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, তিনি ইতিমধ্যেই তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।
সমন জারির পর এক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন তানজিন তিশা। সেখানে মামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি অবশ্যই আদালতে যাব। আমারও ইচ্ছা ছিল আমার সঙ্গে কী ঘটেছে, সেটা নিয়ে কথা বলি। কিন্তু বিষয়টি যেহেতু বিচারাধীন, তাই আমি প্রকাশ্যে বিস্তারিত কিছু বলিনি। দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল। আমি বিশ্বাস করি, সঠিক বিচার পাব এবং আইনিভাবেই বিষয়টি মোকাবিলা করব।’
তিশার প্রশ্ন, দীর্ঘ ১৪ বছরের ক্যারিয়ারে সুনামের সঙ্গে কাজ করার পর মাত্র ২৭-২৮ হাজার টাকার একটি শাড়ির জন্য প্রতারণার অভিযোগ কতটা যৌক্তিক! তাঁর মতে, ‘আমি এত বছর পরিশ্রম করে একজন শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছি একটা অনলাইন শপের ২৭ হাজার টাকার শাড়ি নিয়ে প্রতারণা করার জন্য নয়। আমি বিশ্বাস করি, আমার দর্শকেরা বিষয়টি বুঝতে পারবেন।’
অভিযোগটি করেন একটি অনলাইন পোশাক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। তাঁর দাবি, তিশা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ করে তাঁর প্রতিষ্ঠানের একটি জামদানি শাড়ির প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে প্রচারণার শর্তে শাড়িটি স্পনসর করা হয়। কিন্তু শাড়ি পাওয়ার পরও তিনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো প্রচারণা করেননি এবং শাড়ির মূল্যও পরিশোধ করেননি বলে অভিযোগ ওই স্বত্বাধিকারীর।
অন্যদিকে শুরু থেকেই তানজিন তিশার দাবি, শাড়িটি ছিল উপহার। অভিযোগ ওঠার পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘গিফট নিয়ে হয়ে গেলাম প্রতারক! হা হা! আর ফটোশুটই যদি করাতে চান, পারিশ্রমিক কই? আজব নারী উদ্যোক্তা! আপনার গিফটরে সালাম!’ এখন আদালতের সমনের পর পুরো বিষয়ের নিষ্পত্তি কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট সবার। আদালত তানজিন তিশাকে আগামী ১৩ আগস্ট হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অভিনেত্রীও জানিয়েছেন, তিনি আদালতে উপস্থিত হয়ে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিজের অবস্থান তুলে ধরবেন।


